বাউফলে স্বামীর হামলায় শ্বশুর–শাশুড়িসহ তিনজন গুরুতর আহত | Daily AjKaler Kontho

বাউফলে স্বামীর হামলায় শ্বশুর–শাশুড়িসহ তিনজন গুরুতর আহত


বাউফল প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৬, ২০২৫, ১:০৬ অপরাহ্ন
বাউফলে স্বামীর হামলায় শ্বশুর–শাশুড়িসহ তিনজন গুরুতর আহত

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের গোয়ালিয়াবাগা গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে মেয়ের জামাইয়ের হামলায় একই পরিবারের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে আছেনআব্দুস সাত্তার (৬০), তাঁর স্ত্রী হেলেনা বেগম (৫০) এবং তাঁদের মেয়ে হাফসা বেগম (২১)।কি ঘটেছিল সেদিন?

স্থানীয় লোকজন জানান, হাফসা বেগমকে বাড়ি থেকে নিতে তাঁর স্বামী ইকবাল হোসেন মিরাজ (৩০) আসেন। কিন্তু হাফসা তাঁর সঙ্গে যেতে রাজি না হলে ক্ষুব্ধ হয়ে ইকবাল প্রথমে স্ত্রীকে চুল ধরে টেনে-হিঁচড়ে মারধর করেন। মেয়েকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে শ্বশুর আব্দুস সাত্তারের মাথায় আঘাত করেন তিনি। পরে হেলেনা বেগম মেয়েকে বাঁচাতে গেলে ইকবাল কাঠের রুয়া দিয়ে তাঁর মাথায় ও হাতে আঘাত করেন। এতে তাঁর মাথা ফেটে যায় এবং বাম হাত ভেঙে যায়। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ আব্দুস সাত্তার বলেন, মেয়েকে বহুদিন ধরে নির্যাতন করা হচ্ছিল।

গরিব মানুষ বলে বারবার চুপ করে থেকেছি। শেষে মেয়েটা সাভার থেকে আমার বাড়িতে ফিরে আসে। আজ নিতে এসে না বলায় এমন হামলা করেছে। গ্রামের লিটনও তাকে উসকে দিয়েছে, পুরোনো জমিজমার বিরোধের কারণে।

হেলেনা বেগম বলেন, “মেয়েকে বাঁচাতে গেলে মিরাজ কাঠের রুয়া দিয়ে মাথায় মারে। রক্ত ঝরছিল। হাত দিয়ে চাপ দিতে গেলে হাতে আঘাত করে হাত ভেঙে দিয়েছে।

হাফসা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন আগেও নির্যাতন করত। গরিব হওয়ায় বাবা-মা কিছু করতে পারেননি। আজ জোর করে নিয়ে যেতে চাইলে রাজি না হওয়ায় আমাদের সবাইকে মারধর করেছে।

চিকিৎসকের বক্তব্য বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মাশরাফুল ইসলাম সৈকত জানান, “বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর দুজনকে শের-ই–বাংলা মেডিকেলে রেফার করা হয়েছে।

অভিযুক্তদের অবস্থান

অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন মিরাজের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে উল্লেখ করা লিটনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমাদের বাড়িতে প্রায় ৫০ জন মানুষ থাকে। আব্দুস সাত্তারের পরিবারকে কেউ পছন্দ করে না। মারামারি হয়েছে, ওরা তিনজন মিলে মিরাজকে মারছিল, তাই মিরাজও তাদের মেরেছে। আমরা তাদের বাঁচাতে গেলে তারা আমাদের বাজে ভাষায় গালাগালি করত, তাই যাইনি।

পুলিশ ও স্থানীয় পরিস্থিতি

পারিবারিক নির্যাতন ও পুরোনো জমিজমা বিরোধের কারণে এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। पुलिस ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
মো:আলী আশরাফ