নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাধা : সাবেক প্রক্টর, রেজিস্ট্রারসহ ১৬ জনের শাস্তি | Daily AjKaler Kontho

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাধা : সাবেক প্রক্টর, রেজিস্ট্রারসহ ১৬ জনের শাস্তি


জাককানইবি প্রতিনিধি : প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২, ২০২৫, ৩:১৪ অপরাহ্ন
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাধা : সাবেক প্রক্টর, রেজিস্ট্রারসহ ১৬ জনের শাস্তি

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বাধাদান, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হুমকি প্রদানের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক, এক কর্মকর্তা ও ১৩ শিক্ষার্থীসহ মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার(২৭ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯০তম সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযুক্ত দুই শিক্ষক হলেন—সাবেক প্রক্টর সঞ্জয় কুমার মুখার্জি এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের সাবেক পরিচালক ড. মো. মেহেদী উল্লাহ। কর্মকর্তা তালিকায় রয়েছেন সাবেক রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীর। বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সভায় তিনজনকেই সাময়িকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।অন্যদিকে ১৩শিক্ষার্থীর মধ্যে বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের স্থায়ী বহিষ্কার এবং যারা ইতিমধ্যে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন, তাদের ডিগ্রি ও সনদ বাতিল করা হয়েছে।

শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আল মাহমুদ কায়েস, সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদুল ইসলাম রিয়েল সরকার, থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের আনাস সরকার, ইইই বিভাগের জুবায়ের আহমেদ সাব্বির (অ্যালেক্স সাব্বির), সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মো. ইনজামামুল হাসান, ইএসই বিভাগের কে এম রাজু, বাংলা বিভাগের মোছা. তৃণা মির্জা, চারুকলা বিভাগের হাসিব সিদ্দিকী ও তাসনীমুল মুবীন, পরিসংখ্যান বিভাগের মো. মোস্তাকিম মিয়া এবং দর্শন বিভাগের মো. পারভেজ মাতুব্বরসহ আরও কয়েকজন।

জানা যায়, জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বাধা সৃষ্টি, ভয়ভীতি ও ধর্ষণের হুমকি প্রদান এবং আহতদের চিকিৎসা সেবায় বিঘ্ন ঘটানোর মতো গুরুতর অভিযোগের তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চলতি বছেরর ১৬ এপ্রিল ১০ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিতে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো: হাবিব-উল-মাওলাকে আহ্বায়ক ও প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমানকে সদস্য সচিব করা হয়।

সাক্ষ্যগ্রহণ, ভিডিওফুটেজ ও নথিপত্র বিশ্লেষণ শেষে কমিটি একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে অভিযোগগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য ও প্রমাণিত উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করা হয়।

আজকালের কন্ঠ/আর এস/এস