কুয়াকাটায় নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের প্রতিবাদে সড়কের ‘আত্মার মাগফেরাত কামনায়’ প্রতীকী জানাজা | Daily AjKaler Kontho

কুয়াকাটায় নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের প্রতিবাদে সড়কের ‘আত্মার মাগফেরাত কামনায়’ প্রতীকী জানাজা


কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৭, ২০২৫, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন
কুয়াকাটায় নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের প্রতিবাদে সড়কের ‘আত্মার মাগফেরাত কামনায়’ প্রতীকী জানাজা

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন নির্মাণাধীন মেরিন ড্রাইভ সড়কে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলে সড়কটির ‘আত্মার মাগফেরাত কামনায়’ প্রতীকী জানাজা নামাজ আদায় করেছে ‘কুয়াকাটা স্টুডেন্ট এলায়েন্স’-এর সদস্যরা। বুধবার সন্ধ্যায় মীরাবাড়ি সংলগ্ন পশ্চিম পাশে কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে লেবুরবন পর্যন্ত সড়কের ওপর কাপনের কাপড় বিছিয়ে এ প্রতীকী জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজা শেষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে স্থানীয়দের মাঝে মিষ্টান্ন বিতরণ করা হয়।

ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলে টেকসই সড়কের গুরুত্ব

কুয়াকাটা উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় প্রতিবছর ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে। বেড়িবাঁধ ঘেঁষে নির্মিত এই মেরিন ড্রাইভ সড়ক স্থানীয়দের জীবন–জীবিকার নিরাপত্তায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই গুরুত্বপূর্ণ সড়কেই নিম্নমানের সামগ্রী ও অনিয়মের অভিযোগে ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন এলাকাবাসী।

নির্মাণকাজে অনিয়ম—অভিযোগের পাহাড়

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, জিরো পয়েন্ট থেকে লেম্বুরবন পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজটি পেয়েছে ‘ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ রয়েছে—

মাটির পরিবর্তে লবণাক্ত বালু ব্যবহার, খোয়া কম দেওয়া, নিম্নমানের কার্পেটিং, নির্মাণসামগ্রীতে ব্যাপক অনিয়ম।
ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী চলতি মাসের ২৫ তারিখ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে।

স্থানীয়দের ক্ষোভ

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি টেকসই না হওয়ার প্রধান কারণ হলো নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার।

ছাত্র রিপন সাব্বির বলেন, “শুধু মানুষ পরিবর্তন করলেই হবে না, দুর্নীতি দূর করতে হলে আমাদের সবার মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। আমরা দ্রুত এ অনিয়মের সমাধান চাই।”

স্থানীয় বাসিন্দা কাদের হাওলাদার বলেন, “আগে রাস্তা ভালোই ছিল। এখন আধা ইঞ্চি ঢালাই দিয়ে কাজ করছে। এমন মানহীন রাস্তা আমরা চাই না। ঠিকভাবে করতে পারলে করুক, না পারলে কাজ বন্ধ করুক।”

জেলে রাজিব জানান, “এই বেড়িবাঁধই আমাদের বাঁচার আশ্রয়। এখানে অনিয়ম হলে আমরা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ব।”

ঢাকা থেকে আগত পর্যটক আসিব মাহমুদ বলেন, “লোকজন হাত দিয়ে কার্পেট তুলে দেখাচ্ছিল। দাঁড়িয়ে দেখি রাস্তার কাজের মান খুবই খারাপ। পর্যটন এলাকায় এমন অনিয়ম হওয়া লজ্জাজনক।”

এ বিষয়ে ঠিকাদার মো. জসিম মৃধা বলেন, “এখানে ৪০ মিলি কার্পেটিং করার প্রয়োজন থাকলেও আমাকে দেওয়া হয়েছে ২৫ মিলি কার্পেটিংয়ের বরাদ্দ। এছাড়া আশপাশে মিষ্টি পানির ব্যবস্থাও নেই। ওয়ার্ক অর্ডারে ড্রেজিং বালুর কথা থাকলেও ১৫ কিলোমিটার দূর থেকে বালু এনে কাজ করছি। তারপরও আমরা নিয়ম মেনে কাজ করছি।”

এলজিইডির অবস্থান

পটুয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হোসাইন আলী মীর বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। কিছু অনিয়ম পাওয়া গেছে। ঠিকাদারকে নিয়ম মেনে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা না হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আজকালের কন্ঠ/আর বি