১০ দফা দাবীতে বায়রা সদস্যদের মানববন্ধন | Daily AjKaler Kontho

১০ দফা দাবীতে বায়রা সদস্যদের মানববন্ধন


শাহজালাল (রাসেল) প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১০, ২০২৫, ৪:৩৪ অপরাহ্ন
১০ দফা দাবীতে বায়রা সদস্যদের মানববন্ধন

১০ই নভেম্বর সোমবার সকালে রাজধানীর কাকরাইল বিএমইটি ভবনের নিচে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা)-এর সদস্যদের চলমান সংকট ও নিরাসনের উপায় বিষয়ে ১০ দফা দাবি আদারের লক্ষ্যে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শ্রমবাজার রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব মোঃ মহিউদ্দিনঃ-

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সী’জ (বায়রা) এর সদস্যগণ প্রতি বছর ১০ লক্ষের অধিক বাংলাদেশী কর্মীর জন্য বৈদেশিক কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বছরে প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার আয় করার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখছে যা ইতিমধ্যে একক অর্থবছর হিসেবে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ৩০.৪ বিলিয়ন ডলার রেকর্ড অর্জন করেছে। দেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি রেমিটেন্স, আর রেমিটেন্স প্রবাহের হৃদপিণ্ড অভিবাসন সেক্টর।

আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে জানাচ্ছি যে, বাংলাদেশের অন্যতম বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের খাত জনশক্তি রপ্তানি খাত বর্তমানে স্মরণকালের সবচেয়ে মারাত্মক সংকটে নিপতিত। পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে-এখনই ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করলে আগামী দিনে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান এ খাতের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে।

একদিকে অর্থনীতির ‘ব্লাড সঞ্চার” খ্যাত এই খাত ক্রমশ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে উত্তরণের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বৈধ অভিবাসনকে অসাধু এনজিও, বিদেশি স্বার্থান্বেষী লবিস্ট ও এক শ্রেণীর প্রশাসনিক ব্যক্তির বিভ্রান্তিমূলক প্রভাবের কারণে জটিলতার জালে আটকে ফেলা হয়েছে।

চলমান সংকটের প্রমাণসমূহ:

★ বৈধ অভিবাসনকে ‘মানব পাচার প্রতিরোধ আইন ২০১২”-এর সাথে কৌশলে সংযুক্ত করা।
★ অভিবাসী আইন ২০১৩-এর বিভিন্ন ধারায় বৈধ অভিবাসনকে অপরাধের সাথে তুলনা করা।
★ ১৪ জুলাই ২০২৫-এর প্রজ্ঞাপনসহ একাধিক সংশোধনীতে রিক্‌রুটিং এজেন্সির কার্যক্রমে নতুন বাধা আরোপ।
★ অসাধু এনজিওদের মিথ্যাচার, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রিপোর্ট এবং এক শ্রেণীর আমলাতান্ত্রিক গোষ্ঠীর অপতৎপরতা।

বর্তমান বাস্তবতা

১. লাইসেন্স নবায়নে অযৌক্তিক জটিলতা।
২. বহির্গমন ছাড়পত্র ইস্যুতে অপ্রয়োজনীয় বাধা।
৩. অভিযোগ বাণিজ্যের নামে হয়রানি।
৪. রিক্রুটিং এজেন্সির স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবন্ধকতা।

১০ দফা যৌক্তিক দাবি সমূহঃ-

১. লাইসেন্স নবায়ন: রিক্রুটিং লাইসেন্স নবায়নে অভিযোগ নিষ্পত্তি বা কর্মী প্রেরণের শর্ত বাতিল করে পূর্বের নিয়মে দ্রুত নবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

২. সাংঘর্ষিক ধারা বাতিল: মানব পাচার প্রতিরোধ আইন ২০১২ এবং অভিবাসী আইন ২০১৩-এর বৈধ অভিবাসনের বিপরীত ধারাসমূহ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

৩. সৌদি আরবগামী কর্মীদের বহির্গমন ছাড়পত্র : সৌদি আরবের ১-২৪ পর্যন্ত একক বহির্গমন ছাড়পত্র পূর্বের নিয়মে অব্যাহত রাখতে হবে এবং বাধাসৃষ্টিকারী সংশ্লিষ্ট বিধি বাতিল করতে হবে।

৪. বাতিলকৃত ৪৫ টি লাইসেন্স পুনর্বহাল ও ৫০ লক্ষ টাকা জমানত: অযৌক্তিক ভাবে বাতিল হওয়া ৪৫ টি রিক্রুটিং লাইসেন্স অবিলম্বে পুনর্বহাল করতে হবে এবং নতুন রিক্রুটিং লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে ৫০ লক্ষ টাকা জমানতের বিধান বাতিল করতে হবে।

৫. অভিযোগ প্রক্রিয়া সংস্কার: অভিযোগ শুধুমাত্র কর্মীর নিকটাত্মীয়ের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হবে এবং অভিযোগ নিষ্পত্তি শুধুমাত্র ঢাকায় হতে হবে।

৬. দূতাবাসে এজেন্সি তালিকাভুক্তি: সকল রিক্রুটিং এজেন্সিকে সৌদিসহ সংশ্লিষ্ট সকল দূতাবাসে তালিকাভুক্ত করার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

৭. বৈশ্বিক শ্রমবাজার উন্মুক্তকরন: মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কুয়েত, জাপান সহ অন্যান্য সকল শ্রমবাজার বায়রা সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত করতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।

৮. লাইসেন্স জামানতের লভ্যাংশ: লাইসেন্স জামানতের লভ্যাংশ পূর্বের নিয়মে বহাল রাখতে হবে, পে-অর্ডার জামানত ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে।

৯. একক এজেন্সি বাধ্যতামূলকতা বাতিল: কোনো দেশের জন্য BOESL-এর একক এজেন্সি ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য নয়, G2G+ পদ্ধতি কার্যকর করতে হবে।

১০. নারীকর্মী প্রেরণ ও দেশভিত্তিক জামানত প্রথা বাতিল: দেশভিত্তিক অতিরিক্ত জামানত ও রিক্রুটিং লাইসেন্স শ্রেণীবিন্যাস ABCD শ্রেণীকরণের সকল প্রচেষ্টা বাতিল করতে হবে।

উল্লেখ যে, মানববন্ধন শেষে বিএমইটির ডিজি সাথে বৈঠক করেন তারা, পরে সাংবাদিকের জানান দাবি আদায়ের বিষয়ে এখন কোনো আশ্বাস পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবারের (১১ নভেম্বর) মধ্যে ১০ দফা দাবি মানা না হলে বুধবার (১২ নভেম্বর) থেকে বিএমইটি ঘেরাও করে অচল করে দেয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

আমাদের সম্মিলিত আহ্বান

“আমাদের দাবি কোনো প্রতিবাদ নয়-এটি টিকে থাকার আর্তনাদ। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান উৎস এই খাত। “কে কী করলো তা নয়-এখন ভাবার সময় আমরা সবাই মিলে দেশের জন্য কী করবো।” দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

উক্ত মানববন্ধন সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান আতিক, সঞ্চালনায় ছিলেন বায়রা সাবেক যুগ্ম মহাসচিব এম টিপু সুলতান। যুগ্ন আহবায়ক মাহবুব উল করিম সিদ্দিকী জাফর সহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য শ্রমবাজার রক্ষা আন্দোলন হলো বায়রা সদস্যদের ন্যায্য দাবি আদায়ের সম্মিলিত মোর্চা। প্রচারে: বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা)-এর সদস্যবৃন্দ।

আজকালের কন্ঠ/আর বি