
নাটোরের বড়াইগ্রামে শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে শুরু হয়েছে খেজুরের রস সংগ্রহের মৌসুম। গ্রামের মানুষ এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন খেজুর গাছ পরিষ্কার, ছেঁটে দেওয়া এবং রস সংগ্রহের কাজে।
গাছি মোঃ বারিক ইসলাম জানান, “ভোরের শিশিরে ভেজা খেজুর গাছ থেকে যখন প্রথম রস পড়তে শুরু করে, মনে হয় সারা বছরের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। যত ভালোভাবে গাছগুলো যত্ন করি, তত বেশি মিষ্টি রস পাওয়া যায়।”
প্রতিবেশী মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, “গাছিরা যত্ন ও ধৈর্য ধরে কাজ করছে, তাদের পরিশ্রম সত্যিই প্রশংসনীয়। এর ফলে গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে শীতের মিষ্টি স্বাদের রস পৌঁছায়।”
মানবাধিকারের নাটোর জেলা সভাপতি মোঃ সাহাবুল আলম বলেন, “খেজুর রস সংগ্রহের এই শীতকালীন মৌসুমে আমরা চাই, গাছিরা নিরাপদে তাদের কাজ সম্পন্ন করুক। স্থানীয়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সতর্ক থাকা অপরিহার্য। এটাই মানবতার এবং দায়িত্বশীলতার পরিচয়।”
গ্রামের প্রতিটি প্রান্তে দেখা যায় গাছিদের সতর্ক ও পরিশ্রমী উপস্থিতি—হাতে বঁটি, কোমরে দড়ি, পিঠে বাঁশের পাইপ। রাতভর খেজুর গাছের কাঁধে ঝুলে থাকে কলস; সকালে ভোরের আলোতে টপটপ করে পড়ে খাঁটি খেজুর রস। এই রস দিয়েই তৈরি হয় খেজুরের গুড় ও পাটালি— যা বাঙালির রান্নাঘরে শীতের আসল স্বাদ জাগিয়ে তোলে।
প্রবীণরা বলেন, “খেজুর গাছ মানেই শীতের আগমন। রস নামার শব্দ শুনলেই মনে হয় শীত এসে গেছে।”
এভাবে বড়াইগ্রামের মানুষ শীতের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি উপহারকে ঘিরে উৎসবমুখর হয়ে উঠছেন।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :