কুয়াকাটায় পিতা–পুত্র বিরোধ: পুত্রের বিরুদ্ধে নাশকতা ও নেশা-সেবনের অভিযোগ পিতার | Daily AjKaler Kontho

কুয়াকাটায় পিতা–পুত্র বিরোধ: পুত্রের বিরুদ্ধে নাশকতা ও নেশা-সেবনের অভিযোগ পিতার


কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৩, ২০২৫, ৬:১৯ অপরাহ্ন
কুয়াকাটায় পিতা–পুত্র বিরোধ: পুত্রের বিরুদ্ধে নাশকতা ও নেশা-সেবনের অভিযোগ পিতার

পটুয়াখালীর মহিপুর থানার অন্তর্গত কুয়াকাটার বাহামকান্দা (খাজুরা) এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে পিতা ও পুত্রের মধ্যে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পুত্রের বিরুদ্ধে মাদকসেবন, অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও পারিবারিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন পিতা মো. শাহ আলম খলিফা। এ ঘটনায় তিনি বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমইউজে) পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতির কাছে লিখিতভাবে বিচার প্রার্থনা করেছেন।

অভিযোগপত্রে শাহ আলম খলিফা জানান, তাঁর ছেলে মো. রাসেল খলিফা প্রায় দুই বছর ধরে মদ, গাঁজা ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত। পাশাপাশি স্থানীয় কিছু অসাধু চক্রের সঙ্গে মিলে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি, জোরজবরদস্তি ও হুমকি প্রদানের মতো অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছেন।

তিনি বলেন, “আমি পিতার দায়িত্ব থেকে বহুবার ছেলেকে সঠিক পথে ফেরানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু সে উল্টো অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে, অবজ্ঞাপূর্ণ আচরণ করে এবং লাঠি নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।”

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির কাজে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় রাসেল আচমকা এসে কটু মন্তব্য করে এবং লাঠি হাতে পিতার ওপর আক্রমণের চেষ্টা চালায়। এ সময় শাহ আলমের কন্যা এগিয়ে এসে পিতাকে রক্ষা করেন। নেশার জন্য টাকা না দেওয়ায় পুত্র পিতাকে “চিরতরে বিদায়” বা “খুন করে ফেলার” মতো ভয়াবহ হুমকিও দেয় বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

এই ঘটনার পর শাহ আলম খলিফা স্থানীয় প্রশাসন, সাংবাদিক সংগঠন ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পুত্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, প্রয়োজনে তিনি সেনা প্রশাসনের কাছেও লিখিত অভিযোগ জানাবেন।

এ বিষয়ে শাহ আলমের কন্যা নাদিয়া আক্তার বলেন, “আমার ভাই বাবার সঙ্গে এমন আচরণ করেছে, এটা খুবই দুঃখজনক। তবে বিষয়টি পারিবারিক, আমরা নিজেরাই সমাধানের চেষ্টা করব এবং ভাইকে বাবার কাছে ক্ষমা চাইতে বলব।”

স্থানীয়রা জানান, পারিবারিক দ্বন্দ্বের ঘটনাটি দুঃখজনক হলেও এলাকায় যেন কোনো অশান্তি না ছড়ায়, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন।

আজকালের কন্ঠ/আর বি