উলিপুরে পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত চাল সরবরাহের অভিযোগ | Daily AjKaler Kontho

উলিপুরে পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত চাল সরবরাহের অভিযোগ


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৩, ২০২৫, ৬:০২ অপরাহ্ন
উলিপুরে পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত চাল সরবরাহের অভিযোগ

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের উলিপুর সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে দুস্থ ও অসহায় নারীদের জন্য পচা, দুর্গন্ধময় ও ছাতা ধরা চাল সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির আওতায় বজরা ইউনিয়নের ২৯০ জন সুবিধাভোগীর জন্য জুলাই ও আগস্ট মাসে বরাদ্দ ১৭ টন ৪০০ কেজি চাল গত ১০ সেপ্টেম্বর উলিপুর খাদ্যগুদাম থেকে ইউপি গুদামে আনা হয়। তবে ইউপি সদস্যরা জানান, অধিকাংশ বস্তায় পচা, দুর্গন্ধময়, পাথর মিশ্রিত ও ছাতা ধরা চাল পাওয়া গেছে। এজন্য চাল বিতরণ বন্ধ রেখে বিষয়টি চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।

ইউপি সদস্য আরজু মিয়া, লুৎফর রহমান ও এনামুল হক বলেন, “সরকারি গুদাম থেকে আনা চাল কোনোভাবেই খাওয়ার উপযোগী নয়। তাই চাল বিতরণ স্থগিত রাখা হয়েছে।”

স্থানীয় সূত্র জানায়, উলিপুরের ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী গত এপ্রিল যোগ দেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। বোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহে ভুয়া কৃষকের নামে বিল উত্তোলন, উৎকোচ গ্রহণ এবং নিম্নমানের চাল সংগ্রহের মাধ্যমে লাখো টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিলমালিক সমিতির কয়েকজন সদস্য জানান, ধান সরবরাহের ক্ষেত্রে টনপ্রতি ১ হাজার ২০০ টাকা এবং চাল সংগ্রহে টনপ্রতি ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়েছেন গুদাম কর্মকর্তা। এর ফলে সরকারি বিধি উপেক্ষা করে নন-শুটার ও নিম্নমানের চাল গুদামে মজুত হয়, যা পরবর্তীতে ভিডব্লিউবি কর্মসূচির মাধ্যমে বিতরণের চেষ্টা চলছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বলেন, “খারাপ চাল যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। পরিষদের লোকজনের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। সামান্য উনিশ-বিশ হতে পারে।”

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মিসবাহুল হুসাইন বলেন, “নিম্নমানের চাল সরবরাহের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নয়ন কুমার সাহা বলেন, “খারাপ চাল কোনোভাবেই বিতরণ করা যাবে না। ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি জানালে খাদ্য বিভাগকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, ভিডব্লিউবি কর্মসূচি হলো দরিদ্র নারীদের খাদ্যসহায়তা ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের একটি সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম। এটি পূর্বে ভিজিডি কর্মসূচি নামে পরিচিত ছিল।

আজকালের কন্ঠ/আর বি/এস