সত্যকে ধামাচাপা দিতে মানববন্ধন হত্যাকারীদের বাঁচাতে কিছু সংবাদ কর্মী এখন মরিয়া | Daily AjKaler Kontho

সত্যকে ধামাচাপা দিতে মানববন্ধন হত্যাকারীদের বাঁচাতে কিছু সংবাদ কর্মী এখন মরিয়া


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২, ২০২৫, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন
সত্যকে ধামাচাপা দিতে মানববন্ধন হত্যাকারীদের বাঁচাতে কিছু সংবাদ কর্মী এখন মরিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক : সত্যকে ধামাচাপা দিতে মানববন্ধন সাধারণ জনগণ সংবাদ কর্মীদের উপরে আস্থা হারিয়ে ফেলবে। কারণ প্রকৃত হত্যাকারীরা গ্রেপ্তার হয়েছে। টাকার বিনিময় হত্যাকারীদের পক্ষে মানববন্ধন করা এটা বেমানান এবং হাস্যকর।একজন নিরীহ মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। হত্যাকারী শাহীন হাওলাদার সহ তিনজনই গ্রেফতার হয়েছে।

এই হত্যার মূল আসামি তারা, হত্যাকারীরা, নিহত সোহেল খান, এর পরিবারদেরকে হুমকি প্রদান করে মামলা তুলে নিতে, বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে তারা, পূর্ব শত্রুতার জেরে কৃষককে হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ বরিশালের বাকেরগঞ্জে সোহেল খান (৩৫) নামে এক কৃষককে হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন সোহেলকে বাড়ী ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে।

শনিবার (২৭ সেপ্টম্বর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার কবাই ইউনিয়নের উত্তর কবাই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত কৃষক সোহেল খান উপজেলার কবাই ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের উত্তর কবাই গ্রামের নূর ইসলাম হাওলাদারের ছেলে।

নিহতের স্ত্রী সাজেদা বেগম জানান, গত ১৫ দিন আগে তার একটি বাচ্চা জন্ম নিয়েছে। সেজন্য তিনি শনিবার বাবার বাড়ীতে ছিলেন। ওইদিন রাত ১১ টার সময় একই গ্রামের শাহিন হাওলাদার তার স্বামী সোহেল খানকে লোক মারফত বাড়ী থেকে ডেকে নেয়। এরপর রাত ১২ টার দিকে বাড়ীর পার্শ্ববর্তী মসজিদের সামনে নিয়ে হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করে। পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডকে ধামাচাপা দিতে রাত ১ টার সময় মসজিদের মাইকে এলাকায় ডাকাত পরেছে বলে প্রচার চালিয়ে মব সৃষ্টি করে। সকালে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, তরমুজ চাষের জন্য গত বছর তার স্বামী সোহেল খানের নিকট থেকে উত্তর কবাই গ্রামের মন্নান হাওলাদারের পুত্র শাহিন হাওলাদার চরকবাইতে তাদের কয়েক বিঘা জমি লিজ নেয়। এবছর ওই জমি লিজ না দিয়ে তার স্বামী নিজে চাষাবাদ করে। এ ঘটনায় শাহীন হাওলাদার ১৫০-২০০ মহিষ এনে তাদের চাষাবাদের জমির ফসল নষ্ট করে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শনিবার রাতে শাহিন হাওলাদার পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করে তার স্বামীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হাত পা বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করে। তিনি তার স্বামীর হত্যাকাণ্ডের বিচার চান।

নিহতের কণ্যা ৭ম শ্রেনীতে পড়ুয়া ফাতিমা আক্তার জানান, তার পিতা একজন কৃষক। তিনি ডাকাত নন। অথচ তরমুজ চাষের জমি লিজ না দেয়ায় শাহিন হাওলাদাররা এলাকায় মব সৃষ্টি করে পরিকল্পিতভাবে তার পিতাকে হত্যা করেছে। কান্নাজড়িত কন্ঠে প্রশ্ন রাখেন পিতার মৃত্যুর পর তার মা এবং তাদের পাঁচ ভাই বোনের দায়িত্ব কে নেবে?

বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, রবিবার দিবাগত রাত পৌনে ৪ টার সময় ৯৯৯ থেকে একটি কল আসে চরকবাই গ্রামে একজন ডাকাত আটকে রাখা হয়েছে। উক্ত সংবাদ পেয়ে তিনিসহ থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে সোহেলের হাতপা বাঁধা অবস্থায় লাশ উদ্ধার করেন। লাশ উদ্ধার করে পোস্টমর্টেমের জন্য বরিশালে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে নিহতের পরিবারের দাবি পূর্ব শত্রুতার জের ধরে স্থানীয় শাহীন হাওলাদার পরিকল্পিতভাবে সোহেল খানকে হত্যা করেছে। দুটো বিষয় গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। এবং হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি