
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি : রাজনীতির মাঠে একদল থেকে আরেকদলে ঝুঁকে সুযোগ নেওয়া যেন নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কুয়াকাটায়। এর প্রকৃত উদাহরণ হিসেবে আলোচনায় এসেছেন মোসাঃ রহিমা আক্তার রুপা। একসময় তারা ছিলেন আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ মুখ, এখন আবার বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—তাদের লক্ষ্য কি আদৌ রাজনৈতিক আদর্শ, নাকি কেবল ব্যক্তিস্বার্থ?
আওয়ামী আমলে উত্থান-
স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী শাসনামকালেই রুপা-আক্কাস দম্পতির উত্থান। তারা কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি আব্দুল বারেক মোল্লার নির্বাচনী সভা-সমাবেশে নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন। শুধু তাই নয়, পৌরসভা নির্বাচনে প্রচারণা ও কৌশলগত সহায়তা দিতেও পিছিয়ে থাকেননি।
অপরদিকে বারেক মোল্লার ছোট ভাই আনছার উদ্দিন মোল্লার সাথেও ছিল তাদের নিবিড় সম্পর্ক। এর জের ধরে রহিমা আক্তারুপা লতাচাপলী ইউনিয়নের ব্লক মেম্বার পদে নির্বাচন করে জয়ী হন। ওই নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ ওঠে, তবে শেষ পর্যন্ত বিতর্কিত ও নির্বাচনে তিনি নির্বাচিত হয়ে রাজনৈতিক প্রভাব আরও বাড়িয়ে নেন।
তৎকালীন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোঃ শাহজাহান খানের কাছেও তারা ঘনিষ্ঠতা অর্জনের চেষ্টা করেন। ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর মতো কৌশল ছিল তাদের রাজনৈতিক ‘পরিচিতি’ বাড়ানোর একটা অংশ।
ক্ষমতার ছত্রছায়ায় ফায়দা-
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, আওয়ামী আমলে এই দম্পতি বিভিন্নভাবে প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা নিয়েছেন। ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ের নানা প্রকল্প, এমনকি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেও তাদের হস্তক্ষেপ লক্ষ্য করা গেছে। কুয়াকাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র আনোয়ার হাওলাদারের কাছেও রুপাকে সর্বক্ষণিক সহযোগিতায় দেখা যেত।
বিএনপির ব্যানারে নতুন খেলা-
কিন্তু রাজনৈতিক পালাবদলের পর দৃশ্যপট পাল্টে যায়। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের (৫ আগস্ট ২০২৪)’র পর রুপা-আক্কাস দম্পতি হঠাৎ করে বিএনপির ব্যানারে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। শুধু তাই নয় আলী আক্কাস হাওলাদার ৫ই আগস্ট রাতে ও পরের দিন সকালে আলিপুর মৎস্যবন্দরে তার নেতৃত্বে হামলা ও লুটতরাজের অভিযোগ সামনে আসে। ঘটনার রাতেই স্থানীয়রা ভয়ে ঘরবন্দি হয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর দাবি, এটি ছিল ক্ষমতা পরিবর্তনের সুযোগে প্রভাব বিস্তার ও সম্পদ দখলের পরিকল্পিত প্রচেষ্টা।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এদম্পতি এখন বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে দলে বড় পদ পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
জনমতের প্রতিক্রিয়া
কুয়াকাটার সুশীল সমাজ বলছে, রুপা-আক্কাস দম্পতির রাজনৈতিক চরিত্র স্পষ্টতই সুযোগসন্ধানী। তারা কখনো আওয়ামী লীগ, আবার এখন বিএনপির ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠা প্রমাণ করে—তাদের লক্ষ্য জনগণের সেবা নয়, বরং নিজের স্বার্থ হাসিল।
স্থানীয় এক প্রবীণ আওয়ামী লীগ কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “যে দম্পতি কিছুদিন আগে আমাদের সভায় সামনে বসে হাততালি দিয়েছে, তারাই আজ বিএনপির পতাকা নিয়ে মাঠে ঘুরছে। এটা রাজনীতি নয়, এটা ক্ষমতার ব্যবসা।”
অন্যদিকে, বিএনপির এক নেতা জানান, “তারা দলে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে ঠিকই, তবে এলাকার মানুষের কাছে তাদের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ফলে নেতৃত্বে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়াটা কঠিন।”
প্রশ্ন রয়ে গেল-
রুপা-আক্কাস দম্পতির দলবদল ও রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে এখনো তদন্ত শুরু হয়নি। তবে স্থানীয়রা মনে করছেন, যদি তাদের অতীত ও বর্তমান কর্মকাণ্ডের সঠিক অনুসন্ধান হয়, তবে একাধিক অপকর্ম ও লুটপাটের চিত্র বেরিয়ে আসবে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি/এম
আপনার মতামত লিখুন :