বাকেরগঞ্জে একমাত্র সড়কে চরম দুর্ভোগে পাঁচ গ্রামের হাজারো মানুষ! | Daily AjKaler Kontho

বাকেরগঞ্জে একমাত্র সড়কে চরম দুর্ভোগে পাঁচ গ্রামের হাজারো মানুষ!


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৫, ৪:৩৭ অপরাহ্ন
বাকেরগঞ্জে একমাত্র সড়কে চরম দুর্ভোগে পাঁচ গ্রামের হাজারো মানুষ!

নিজস্ব প্রতিনিধি : বাকেরগঞ্জ উপজেলায় পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের ডাক্তারবাড়ি বাজার হয়ে বড় পুইয়াউটা গ্রামের প্রাণকেন্দ্র থেকে বয়ে যাওয়া সড়কটি ইউনিয়নের নুরনগর বাজারের সাথে সংযোগ হয়েছে। এই তিন কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় এখন যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ওই সড়ক দিয়ে চলাচল করা পাঁচ গ্রামের হাজারো মানুষ।

উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের বড় পুইয়াউটা, দুর্গাপুর, বড় রঘুনাথপুর, ছোট রঘুনাথপুর, সাকবুনিয়া—এই পাঁচ গ্রামের মানুষের প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম ছিল এই সড়ক। ৫ বছর ধরে সড়কটির ইটসলিং উঠে গিয়ে কাঁচা মাটির সড়কে পরিণত হয়েছে। কয়েক মাস ধরে বৃষ্টির পানিতে সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এখন বর্ষা মৌসুমে সড়কে বৃষ্টির পানি জমে কাদামাটিতে পরিণত হয়ে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এই সড়ক দিয়ে ইউনিয়নের দশটিরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা আসা-যাওয়া করে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছে কোমলমতি শিশুরা। এই এলাকার রোগী হাসপাতালে নেওয়া, কৃষিপণ্য বাজারে আনা-নেওয়া ও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা এলজিইডি কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে থাকা এই সড়কের দুর্ভোগের পাশাপাশি সড়কের সাথে দুটি সেতু এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সেতু দুটির মাঝখানের পলেস্তারা খসে পড়েছে। এর মধ্যে রামেশ্বর ডাক্তারের বাড়ির সামনে থাকা সেতুটি একদিকে হেলে যাওয়ায় স্থানীয়রা সেতুর নিচে বাঁশ দিয়ে খুঁটি বানিয়ে রেখেছে যাতে সেতুটি ধসে না পড়ে। সেতুটি দিয়েও এখন কোনো যানবাহন চলছে না। সেতু দুটি যেকোনো সময় ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় সবুজ তালুকদার বলেন কিছুদিন আগে বন্যার পানিতে সড়কটি ডুবে গেলে তখন আমার বোন গর্ভবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। সময়মতো তাকে হাসপাতালে নিতে না পারায় গর্ভে থাকা বাচ্চা ও মা দুজনই মারা যায়। এই সড়ক ও সেতু এখন এই এলাকার মানুষের মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা জানান, এই সড়কটি ও সেতু সংস্কারের জন্য বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে মানুষজন এখন কাদামাটির সড়ক ও ভাঙা সেতু দিয়ে চলাচল করছে।উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী হাসনাইন আহমেদ জানান, পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের ডাক্তারবাড়ি সড়ক ও ভেঙে যাওয়া সেতু দুটি নতুন একটি প্রকল্পের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণ করা হবে।

 

আজকালের কন্ঠ /আর এস/এম