
জাকির হোসেন জুয়েল, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির নবগঠিত কমিটিকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। অভিযোগ উঠেছে, ত্যাগী ও সংগ্রামী নেতাদের উপেক্ষা করে টাকার বিনিময়ে সিলেকশনের মাধ্যমে নেতৃত্ব বণ্টন করা হয়েছে। এতে তৃণমূল পর্যায়ের বহু নেতা-কর্মীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও বিদ্রূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থাকা এবং নানা সময়ে নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হওয়া নেতাদের বাদ দিয়ে অযোগ্য ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। এ নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভে ফুঁসছে তৃণমূল বিএনপির কর্মীরা।
একাধিক ত্যাগী নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন “আমাদের ত্যাগ-সংগ্রামের কোনো মূল্য নেই। এখানে কেবল অর্থবানরাই নেতা হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে কর্মীরা দলের প্রতি আস্থা হারাবে।”
তৃণমূল কর্মীরা আরও অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির আদর্শ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে উপেক্ষা করে টাকা দিয়ে নেতা বানানো হলে ভবিষ্যতে সংগঠনের ভাঙন অনিবার্য হয়ে উঠবে।
অন্যদিকে, নতুন নেতৃত্বের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে জানানো হয়েছে “দলকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। যোগ্যতার ভিত্তিতেই নেতৃত্ব বাছাই করা হয়েছে।”
এই প্রসঙ্গে রায়পুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম হাওলাদার বলেন “আমি ২২ বছর ধরে রাজপথে আন্দোলন করেছি, কারাগারে গিয়েছি, মামলা-হামলার শিকার হয়েছি। অথচ আজ যারা দলের জন্য কিছুই করেনি, তারা নেতা বনে যাচ্ছে। এ অবস্থায় আমি কার কাছে গিয়ে ভোট চাইবো?”
তিনি আরও বলেন “উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠনে প্রকৃত ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে অযোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বহু নেতাকর্মী ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন। এতে দলের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়েছে।”
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :