
কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার খাজুরা গ্রামে অবস্থিত ৭৮ নং খাজুরা সরকারি (পাইলট) প্রাথমিক বিদ্যালয় বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে রয়েছে। কুয়াকাটা পর্যটন নগরীর পার্শ্ববর্তী এলাকা হলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এই বিদ্যালয় ও এর আশপাশে। এর ফলে প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীকে।
বিদ্যালয়টি কলাপাড়ার একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখানে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। বর্তমানে এখানে প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। কিন্তু বিদ্যালয়ের চারপাশে কোনো পাকা সড়ক না থাকায় বর্ষা মৌসুমে কাদা মাড়িয়ে স্কুলে যেতে হয় শিশুদের। হাঁটু-সমান কাদা পেরোতে গিয়ে প্রায়ই জামা-কাপড় ভিজে যায়, বই-খাতা নষ্ট হয়। ফলে অনেক দিনই অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী স্কুলে আসতে পারে না। এতে সরকারের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শুধু তাই নয়, বিদ্যালয়ের পাশের দুটি ভাঙা কাঠের সাঁকো শিশুদের ভোগান্তিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। প্রতিদিন এক হাতে ব্যাগ আর অন্য হাতে ভিজে জামা সামলে জীবন ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হয় তারা। সামান্য অসতর্কতায় পড়ে গিয়ে কেউ হাত-পা ভাঙছে, কেউ গুরুতর আহত হচ্ছে। এভাবে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটায় শিক্ষার প্রতি ভয় আর অনীহা তৈরি হচ্ছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
বিদ্যালয়ের চারপাশে সাত-আট কিলোমিটার জুড়ে কেবল কাঁচা রাস্তা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
মংথেপাড়া খালেক ভিডিবির বাড়ি থেকে আলম শিকদারের বাড়ি হয়ে খাজুরা স্কুল হয়ে জলিল মোল্লার বাড়ি পর্যন্ত ২ কিলোমিটার।
লেবুর বন ইদ্রিস হাওলাদারের বাড়ি থেকে কবিরের দোকান হয়ে কালাইয়াপাড়া মসজিদ পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার।
বাহামকান্দা হালিম ফরাজির বাড়ি সংলগ্ন মাদ্রাসা থেকে আলম শিকদারের বাড়ি পর্যন্ত আধা কিলোমিটার।
বাহানকান্দা হাকিম হাওলাদারের বাড়ি থেকে সাইদ ফকিরের বাড়ি সংলগ্ন কালভার্ট পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার।
অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানান, এটি খাজুরা এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা করতে হলে শিশুদের মহিপুর বা কুয়াকাটা যেতে হয়, যা সাত-আট কিলোমিটার দূরে। অধিকাংশ পরিবারের পক্ষে এ পথ পাড়ি দেয়া সম্ভব হয় না। ফলে ঝরে পড়ার শঙ্কা দিন দিন বাড়ছে।
অভিভাবক শ্রেণি সদস্য মোঃ শামসুল হক হাওলাদার বলেন, “শিশুদের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে দ্রুত এই এলাকায় দুইটি কালভার্ট নির্মাণ ও সাত-আট কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণ জরুরি। না হলে এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থায় মারাত্মক সংকট তৈরি হবে।”
এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, বহুবার বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ ও আবেদন জানালেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে দিন দিন হতাশা বাড়ছে। তারা সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে লতাচাপলি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, “খাজুরা আমাদের ইউনিয়নের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। এখানকার কাঁচা রাস্তাগুলো স্ক্রিম দেয়া আছে। খুব দ্রুত পাকাকরণের জন্য আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করব। আশা করি সমাধান হবে।”
প্রতিদিন কাদা মাড়িয়ে ও ভাঙা সাঁকো পার হয়ে শিশুদের স্কুলে যাওয়ার দৃশ্য এলাকাবাসীর হৃদয়ে একটাই প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়—কবে অবসান হবে এই অবহেলার?
আজকালের কন্ঠ/আর বি/এম
আপনার মতামত লিখুন :