গৌরনদী পৌরসভার সড়কে জমে থাকে পানি ভোগান্তিতে তিনশত পরিবার | Daily AjKaler Kontho

গৌরনদী পৌরসভার সড়কে জমে থাকে পানি ভোগান্তিতে তিনশত পরিবার


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৪, ২০২৫, ৮:১০ অপরাহ্ন
গৌরনদী পৌরসভার সড়কে জমে থাকে পানি ভোগান্তিতে তিনশত পরিবার

এ,এস,মামুন, গৌরনদী (বরিশাল)প্রতিনিধি : দেখতে মনে হবে, ভারী বৃষ্টি বা নদীর জোয়ারে সড়কটি পানিতে ডুবে গেছে। কিন্তু বাস্তবে প্রায় ১২ মাসই সড়কটিতে পানি জমে থাকে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহন চলাচলের সময় পানি ছিটকে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের কাপড়-চোপড় ভিজে যায়।

সড়কটি বরিশাল জেলার গৌরনদী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের টরকী বন্দর আবাসিক এলাকায় অবস্থিত। সড়কের আশপাশে রয়েছে প্রায় ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৪টি মসজিদ, ৩টি মন্দির, ১টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ১টি কমিউনিটি সেন্টার। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের দোকানপাটসহ ছোট-বড় ৭০ থেকে ৮০টি বাড়ি রয়েছে। ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রায় ২ থেকে ৩ শত পরিবার।

টরকী বন্দর ভিক্টোরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ফাতেমা ইসলাম তানহা জানান, সড়কটি নীলখোলা আরেনায়ারা প্রি-ক্যাডেট স্কুল থেকে শুরু হয়ে টরকী বন্দর ভিক্টোরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, টরকী বন্দর গার্লস স্কুল হয়ে টরকী বন্দর ছাগলহাট হয়ে টরকী বন্দর বড় ব্রিজ পর্যন্ত চলে গেছে। এখানেও প্রায়ই বৃষ্টির পানি জমে থাকে। তিনি বলেন, ভ্যান, মটোরসাইকেল বা রিকশা একটু জোরে গেলে পানি ছিটকে আমাদের জামা-কাপড় নষ্ট হয়ে যায়।

স্থানীয় ভ্যানচালক জব্বার আলী বলেন, খুব সাবধানে গাড়ি চালাই, তারপরও অনেক সময় পানি ছিটকে যায়। তখন যাত্রীদের বকা-ঝকা শুনতে হয়। তিনি আরও জানান, টরকী বন্দর পশুর হাটে ছাগল ক্রেতা-বিক্রেতারাও ভোগান্তিতে পড়েন সড়কে পানি জমে থাকার কারণে। এতে তাদের ক্রয়-বিক্রয় কম হয় এবং আয়ের ওপর প্রভাব পড়ে।

স্থানীয় টাইলস ব্যবসায়ী কাওছার ফকির অভিযোগ করে বলেন, এখানে প্রায় ২৫টি দোকান রয়েছে, তার মধ্যে ৬টি টাইলসের দোকান। এছাড়া রয়েছে ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ৭টি ধর্মীয় উপাসনালয়। বাসাবাড়ি রয়েছে প্রায় ৮০টি, যেখানে প্রায় ৩ হাজার মানুষ বসবাস করে। রাস্তায় পানি জমে থাকার কারণে ব্যবসায় অনেক ক্ষতি হচ্ছে।

স্থানীয় বাড়ির মালিক মিন্টু মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, এই সড়কের নিচ দিয়ে পৌরসভার পানির সরবরাহ লাইনের পাইপ ফেটে গেছে। তাই সেখান থেকে পানি বের হয়ে সড়কে জমে থাকে। এছাড়া বৃষ্টির পানি নামার মতো সঠিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। বহুবার পৌরসভাকে জানালেও কোনো সমাধান পাইনি।

এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিফাত আরা মৌরি বলেন, বিষয়টি আমি আপনার মাধ্যমে জানলাম। পৌরসভার প্রকৌশলীকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তিনি সরেজমিনে গিয়ে খোঁজ নেবেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।