মাসুদ সাঈদীর প্রচেষ্টায় ইন্দুরকানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত | Daily AjKaler Kontho

মাসুদ সাঈদীর প্রচেষ্টায় ইন্দুরকানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২২, ২০২৫, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন
মাসুদ সাঈদীর প্রচেষ্টায় ইন্দুরকানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত

মো : নাজমুল হোসেন, পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি : দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন অবশেষে আল্লামা সাঈদীপুত্র, পিরোজপুর -০১ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাসুদ সাঈদীর প্রচেষ্টায় পিরোজপুরের ইন্দুরকানী (জিয়ানগর) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা সংখ্যা ৩১ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়েছে। ২০ আগষ্ট অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ থেকে প্রেরিত প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নতুনভাবে জনস্বাস্থ্যের আশার আলো হয়ে উঠছে।

২০০৫ সালে জিয়ানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নামে এ হাসপাতালের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। প্রায় লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ৩১ শয্যার এ হাসপাতালটি ২০০৮ সালে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

একই বছর ২৩ ডিসেম্বর বহির্বিভাগ চালু হলেও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমে যেতে পারেনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর পিরোজপুর-১ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য একেএমএ আউয়াল নানা কৌশলে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা সেবা চালু হতে দেননি। কারণ,এটি আল্লামা সাঈদীর নিজ উপজেলা এবং হাসপাতালের নামকরণ হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে। নামকরণকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে বহু বছর হাসপাতালে সীমিত আকারে চিকিৎসা সেবা চালু ছিল।

২০১৭ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এক বিল পাশ করে জিয়ানগর উপজেলার নাম পরিবর্তন করে ইন্দুরকানী রাখা হয়। এরপরই হাসপাতালটির উন্নয়নের পথ কিছুটা সুগম হয়।

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর উদ্যোগে হাসপাতালটিকে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করতে ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ অর্থে হাসপাতালের মূল ভবনকে দ্বিতীয় তলা থেকে চার তলায় উন্নীত করা হয়। পাশাপাশি ছয়তলা ফাউন্ডেশনসহ আধুনিক পাঁচতলা ভবন নির্মাণ, আবাসিক ভবনের সম্প্রসারণ এবং বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন করা হয়।

২০২২ সালের ২১ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতালের ৩১ শয্যার আন্তঃবিভাগ উদ্বোধন করেন সাবেক এমপি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। যদিও অবকাঠামো প্রস্তুত ছিল ৫০ শয্যার জন্য, তবুও পূর্ণাঙ্গ সেবা শুরু হতে বিলম্ব হয়।

বর্তমানে হাসপাতালটির যে অগ্রগতি হয়েছে তার পেছনে ইন্দুরকানী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও আল্লামা সাঈদী পুএ মাসুদ সাঈদীর উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর চেষ্টাতেই স্বাস্থ্য বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ে এবং শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির অনুমোদন মেলে।

এখন হাসপাতালটির শয্যা সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে ৫০-এ উন্নীত হয়েছে। বহির্বিভাগ, রেডিওলজি বিভাগসহ নতুন অবকাঠামো যুক্ত হওয়ায় স্থানীয়রা আরও উন্নত চিকিৎসা সেবা পাওয়ার আশা করছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ভর্তির সুযোগ বাড়বে এবং জরুরি সেবা উন্নত হবে। তবে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ জরুরি।

আল্লামা সাঈদীপুএ মাসুদ সাঈদী বলেন,”২০০১সালে বিএনপি জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতা আসার পর আমার পিতা সাবেক এমপি শহীদ আল্লামা দেলোওয়ার হোসাইন সাঈদী (রহ.)এর প্রচেষ্টায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাধ্যমে অত্র জিয়ানগর উপজেলা বাংলাদেশের মানচিত্রে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা হিসেবে রুপ নেয় এবং অএ উপজেলার ব্রিজ,হাসপাতাল থেকে শুরু করে সকল উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড তার হাতেই গড়ে উঠে। আওয়ামী ফ্যাসিষ্ট সরকার আমলে অত্র উপজেলার সকল প্রকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বঞ্চিত হয়। ৫ আগষ্ট হাসিনার পতনের পর উন্নয়ন বঞ্চিত জিয়ানগর উপজেলায় উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য,অর্থ মন্ত্রণালয় সহ সরকারের সকল গুরুত্বপূর্ণ শাখায় যোগাযোগ অব্যাহত রেখে চলেছি। তারই ধারাবাহিকতায় জিয়ানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নতকরন হলো। শুধু স্বাস্থ্য বিভাগে নয় আমার নির্বাচনী এলাকা (পিরোজপুর ১ আসন) এর সকল সুবিধা বঞ্চিত মানুষের উন্নয়নে আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”