বদলগাছীতে অসহায় জেলফেরত এক ব্যক্তিকে পূণর্বাসনে দোকান উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক | Daily AjKaler Kontho

বদলগাছীতে অসহায় জেলফেরত এক ব্যক্তিকে পূণর্বাসনে দোকান উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৯, ২০২৫, ১২:৩৬ অপরাহ্ন
বদলগাছীতে অসহায় জেলফেরত এক ব্যক্তিকে পূণর্বাসনে দোকান উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক

বদলগাছী প্রতিনিধি : নওগাঁর বদলগাছী স্ত্রী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করে মুক্তি পাওয়ার পর অসহায় জেল ফেরত দুলাল হোসেনকে পূণর্বাসনে পৃষ্টপোষকতা দিয়ে দোকান উদ্বোধন করে দিলেন মানবিক নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল আউয়াল।

দুলাল হোসেন বাড়াতৈল গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর পুত্র। দুলাল জানান, ” ১৯৯৯ সালের ৩০ জুন বদলগাছী হাটে আসে এ সময় শুনতে পায় তার স্ত্রী গলায় দরি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এ সময় আমার শশুর চয়েন উদ্দীন আমার বাড়িতেই ছিল। পরে শশুর আমার বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করে।

এ মামলায় ৩ বছর হাজত খাটি এবং কিছুদিন জামিনে ছিলাম। ২০০৫ সালের পহেলা আগষ্ট ৩ বছর সাজাসহ আমার যাবজ্জীবন ৩০ বছর জেল হয়। ভিবিন্ন দিবসে কিছু ছার পেয়ে ২৩ বছর জেল খেটে ১০ হাজার টাকা জরিমান দিয়ে চলতি বছরের ২ জুলাই জেল থেকে ছাড়া পাই। আমি খুবই অসহায়, আমার থাকার কোন জায়গা নেই।

৪০ হাজার টাকা জামানত দিয়ে দোকানের জায়গা ভাড়া নিয়েছি।” যেহেতু তার নিজস্ব কোন জায়গা জমি নেই। সে খুবই অসহায় জেলখানার ভিতরেই খোজ খবর নেই জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল আউয়াল। মুক্তি পাওয়ার পরই তাকে পূণর্বাসনের উদ্বোগ নেন তিনি। সোমবার বেলা ১টার দিকে ১৫ হাজা টাকার বিভিন্ন মালামাল তুলে দিয়ে বাড়াতৈর মোড়ে দুলালকে পূণর্বাসনে মুদির দোকান উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল আউয়াল বলেন, “মাঝে মধ্যে জেলখানা পরিদর্শনে যেতে হয়। আসামীদের খোঁজ খবর নিতে হয়। যারা খুবই অসহায় বছরে দুজনকে আমরা পূণর্বাসন করি। এর আওতায় দুলালকে করা হলো।” সঙ্গে দুলালকে বাড়ি করার জন্য খাস জায়গা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “জেলে কেমন কষ্ট হয়, কিভাবে থাকতে হয় তার কাছে শেয়ার করে অনেকেই অপরাদ কর্মকান্ড থেকে দুরে থাকবে।” জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ছিলেন এডিসি শাহ মোঃ রাশেদ,জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক নূর মোহাম্মদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান ছনি, এসিল্যান্ড আতিয়া খাতুন, থানা অফিসার ইনচার্জ আনিছুর রহমান প্রমুখ। গ্রামবাসী জানায় বিনা অপরাধে দুলাল ২৩ বছর জেল খেটেছে।

 

আজকালের কন্ঠ/আর এস/সিজান