রাজনৈতিক নেতার অপকর্ম প্রকাশ : মিডিয়া ট্রায়াল নাকি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা | Daily AjKaler Kontho

রাজনৈতিক নেতার অপকর্ম প্রকাশ : মিডিয়া ট্রায়াল নাকি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৩, ২০২৫, ৮:৩৪ অপরাহ্ন
রাজনৈতিক নেতার অপকর্ম প্রকাশ : মিডিয়া ট্রায়াল নাকি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা

আজকালের কন্ঠ ডেস্ক : দেশজুড়ে এখন বিএনপি-জামায়াত, এনসিপি নেতাদের অপকর্ম নিয়ে যে-সকল সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে! এটি মিডিয়া ট্রায়াল নয়, সম্পূর্ণ বাস্তব ঘটনা। যা বর্তমানে গণমাধ্যম সম্পূর্ণ স্বাধীন থাকায় জানতে পেরেছে সকলেই। ৫ আগস্টের আগে গণমাধ্যম যদি এমন স্বাধীনতা পেতো। তাহলে ফ্যাসিস্ট আমলের সকল অপকর্ম প্রকাশ করতো নিশ্চিত। শেখ হাসিনা আমলে স্বাধীন গণমাধ্যম তো দূরের কথা! নাগরিকদের বাকস্বাধীনতাই ছিল না। তাছাড়া বিরোধী দল-মত দমন করা ছিল প্রধান লক্ষ্য।

শেখ হাসিনা আমলে মিডিয়া হাউজগুলো গোয়েন্দাদের নজরদারিতে থাকতো। তাই কেউ স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে লিখতো না। কখনো যদি কেউ সাহস করে সরকারের দুর্নীতি-অপকর্মের প্রতিবেদন করতো, সম্পাদকগণ মন্ত্রণালয় ও গোয়েন্দা ভয়ে প্রকাশ করতো না। উলটো প্রতিবেদককে গোয়েন্দাদের নজরদারিতে এনে বিভিন্ন উপায়ে ভয়-ভীতি দেখানো হতো। অনেক সময় ঐ সাংবাদিকদের ক্রসফায়ার দিতো নয়তো গুম করা হতো। তখন সংবাদপত্র ছিল সরকারের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের মাধ্যম।

তাছাড়া সাধারণ সচেতন নাগরিকদের বাকস্বাধীনতা ছিল না। কেউ কখনো শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু পোস্ট করলে দলীয় পেটুয়াবাহিনী দিয়ে তার চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করতো। মারধর করেছেন স্বাধীন মত প্রকাশের কারণে। অনেকের পেছনে আত্মীয় আ.লীগের প্রভাবশালী নেতা থেকেও মার খেয়েছে। যা আমার নিজ এলাকায় ঘটেছে। আর ভয় তো অধিকাংশ মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকতো। গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছিল শুধু উন্নয়নের জয়গান।

আরে ভাই, শেখ হাসিনাকে তো ফ্যাসিস্ট স্বৈরশাসক বানিয়েছেন আপনারা! দেশের জনগণ। কারণ আপনাদের হিম্মত ছিল না শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বলার। আর সংবিধান অনুযায়ী বিরোধী দল ছিল তো ‘জাতীয় পার্টি’। বছরে একবার সংসদ অধিবেশন হতো। সংসদের ৩০০ আসনের ২২০-২৪০টি আসনই আ.লীগের ছিল। যেকোনো বিল/আইন তো সংসদ অধিবেশন ছাড়াই পাস হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু না তারা মানবিকতা দেখিয়েছে সংসদ অধিবেশনে বিল/আইন পাস করিয়েছে। পৃথিবী মোড়ালদের দেখিয়েছে আমরা যা করছি গণতান্ত্রিক উপায়ে করছি।

আমাদের প্রিয় প্রতিবেশী ভারত তো আছেই মোড়াল দেশের একটি তারা যাহা বলতো পৃথিবী সেটাই বিশ্বাস করতো। রাশিয়া-চীন ছিল অর্থনৈতিক ধান্দায়! আ.লীগ সরকারের সাথে আঁতাত করে কীভাবে নিজস্ব সার্থকতা হাসিল করা যায়। তাই স্বাভাবিক ভাবেই তারা শেখ হাসিনা সরকারকেই সাপোর্ট করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্য সামলানোর বিশেষ দ্বায়িত্বে ছিল প্রতিবেশী ভারত। বাংলাদেশের গণমাধ্যম ছিল নিয়ন্ত্রিত। শেখ হাসিনা সরকারের অপকর্ম প্রকাশের পরিবর্তে উন্নয়নের বুলি প্রকাশ করেছে।

আর প্রকৃত বিরোধী দল বিএনপি-জামায়াত ছিল ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা। জেলখানা ও আদালত পাড়ায় ছিল নেতাকর্মীদের আনাগোনা। শেখ হাসিনা সরকার মামলা-হামলার মাধ্যমে বিরোধী দলকে হয়রানি করা হয়েছে। এর জন্য দায়ী শুধু শেখ হাসিনা নয় বিএনপির কিছু লোভী নেতাকর্মীরাও জড়িত ছিল। তারা বিএনপির বাধা শর্তও নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। পাঁচ-সাত জন নির্বাচনী এলাকা থেকে পাস করে সংসদে গিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে তারা বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

 

আজকালের কন্ঠ/আর এস