
বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের সোনাপুরা গ্রামে ১৫ একর জমির উপর গড়ে উঠেছে জেলার সর্ববৃহৎতম ড্রাগন ফলের বাগান। আর এই বাগানের উৎপাদিত ড্রাগন ফল এখন স্থানীয় চাহিদা পুরন করে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
বর্তমান সময়ে সবাই যেখানে আর্থিক নিরাপত্তার জন্য চাকরি খোঁজেন সেখানে ব্যতিক্রম উদ্যোগ নিয়ে সফল হয়েছেন গোলাম মস্তফা সিকদার। ১৯৮৮ সালে ঢাকা সরকারি বাংলা কলেজ থেকে বি.কম পাস করে তিনি চাকরি নেয় ব্রাক এনজিওর প্রগ্রাম অফিসার হিসেবে।
এরপর তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়ে নিজ গ্রামে গড়ে তুলেছেন ড্রাগন ফলের বাগানসহ কৃষি খামার। তার খামারের নাম দিয়েছেন শিকদার এগ্রো প্রজেক্ট। ২০১৯ সালে পাঁচ লাখ টাকা মূলধন নিয়ে তিনি শুরু করেন ড্রাগন ফলের চাষ। ড্রাগন ফলের বাগান তৈরির পরে তাকে আর পিছনে ফিরতে হয়নি। তার ড্রাগন ফলের খামারে এখন প্রায় ৪ হাজার ড্রাগন ফলের গাছ রয়েছে। প্রতিবছর ১০ টনেরও বেশি ড্রাগন ফল বিক্রয় করেন তিনি। তার খামারে এখন ১২ জন শ্রমিক চাকরি করছেন। তার এই কৃষি খামার এখন এলাকার বেকার যুবকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে।
ড্রাগন ফল চাষের পাশাপাশি আধুনিক মালচিং পদ্ধতি কৃষি খামারে তিনি টমেটো, মিষ্টি কুমড়া, করলা সহ নানান ধরনের শাকসবজি চাষ করেছেন। এই বছর নতুন ভাবে করলা চাষ করে ব্যাপক ফলনও পেয়েছেন তিনি। তার এই খামারে বস্তায় আদা চাষ করে সফলতাও পেয়েছেন। কৃষি খামারের মধ্যেই রয়েছে একাধিক মাছের ঘের। আর সেই মাছের ঘেরে দুই পাশে চাষ করেছেন বিভিন্ন জাতের ভেন্ডি ও কলার বাগান। তার এই পাঁচ বছরের কৃষি খামারে এখন কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। তার এই বাগানের চারদিকে সবুজের সমারোহ। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে ড্রাগন ফলের গাছ। সবুজ গাছে শোভা পাচ্ছে গোলাপি, লাল আর সবুজ ফল। স্বপ্নীল পরিপাটি এ বাগানটি সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে।
গত ২৯ জুলাই (মঙ্গলবার) বাগানটি পরিদর্শন করেছেন বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোসাম্মৎ মরিয়ম ও উপজেলা কৃষি অফিসার সুনিতী কুমার সাহা। তারা বাগানটি পরিদর্শনের মাধ্যমে আরো আধুনিক ও উন্নতি করার পরামর্শ সহ সরকারের বিভিন্ন সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
পরিদর্শন শেষে বরিশার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোসাম্মৎ মরিয়ম জনকণ্ঠকে বলেন, তার এই ড্রাগন চাষেই নিজে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন পাশাপাশি নিজের উপজেলায় ড্রাগন চাষের বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে অনন্য অবদান রাখেছেন কৃষি উদ্যোক্তা গোলাম মোস্তফা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুনীতি সাহা বলেন, কৃষি উদ্যোক্তা গোলাম মোস্তফাকে কৃষি প্রণোদনা সার বীজসহ একজন উপসহকারী কর্মকর্তার মাধ্যমে তার কৃষি খামারে সকল প্রকার সহায়তা প্রদান করা হয়।
কৃষি উদ্যোক্তা গোলাম মোস্তফা জানান, চাকরি ছেড়ে তিনি কৃষি খামার দিয়ে সফল হয়েছেন। অনেকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। যাহারা লেখাপড়া করে চাকরির পিছনে ছুটছেন তারা কৃষিতে উদ্যোক্ত হলে দেশে বেকারত্ব সংখ্যা কমবে। পাশাপাশি নিজেরাও স্বাবলম্বী হতে পারবে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :