
কাজী শরীফ, কুমিল্লা উত্তর জেলা প্রতিনিধি : মুরাদনগর থানা হামলা ও ছাত্র সমন্বয়ক ওবায়দুল হকের ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ১৩ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রবিবার (২৭ জুলাই) কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আবেদা খাতুন তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৫ মার্চ। পুলিশ এবং উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়ার চাচাত ভাই—দুই পক্ষ থেকেই মুরাদনগর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এতে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কসহ মোট ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৭০-৮০ জনকে আসামি করা হয়। মামলার পর ৬ কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করে, যারা পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হন। বাকিরা উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নেন এবং আজ জামিনের জন্য কুমিল্লা দায়রা জজ আদালতে হাজির হন।
আদালতের জামিন না মঞ্জুরের পর নবীপুর পূর্ব ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রুহুল আমিন তুহিন এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হেলাল উদ্দিন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে অসুস্থ হেলাল উদ্দিনকে পুলিশি প্রহরায় কুমিল্লা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয় চিকিৎসার জন্য।
এ বিষয়ে মুরাদনগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, “উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এমপি হওয়ার জন্য বিএনপি নেতা-কর্মীদের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জেলে দিচ্ছেন। কিছুদিন আগে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ নেতা ইকবাল বাহারকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনা হলেও, বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সাজানো মামলায় জেল পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগ নেতারা বুক ফুলিয়ে এলাকায় ঘোরাফেরা করলেও বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে চলছে নির্যাতনের স্টিমরোলার। এই অবিচার আর সহ্য করা হবে না। অবিলম্বে আমাদের নেতা-কর্মীদের মুক্তি না দিলে মুরাদনগর থেকেই আন্দোলন শুরু হবে—শেষ হবে ঢাকায়।”
আজকালের কন্ঠ/আর বি/আর
আপনার মতামত লিখুন :