গোমড়া গুচ্ছ গ্রামের সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে ঘর বানিজ্যের অভিযোগ | Daily AjKaler Kontho

গোমড়া গুচ্ছ গ্রামের সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে ঘর বানিজ্যের অভিযোগ


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : জুলাই ৮, ২০২৫, ৫:১৪ অপরাহ্ন
গোমড়া গুচ্ছ গ্রামের সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে ঘর বানিজ্যের অভিযোগ

মো: রিয়াজ, ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি : শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গোমড়া গুচ্ছ গ্রামের সভাপতি সম্পাদকের বিরুদ্ধে ঘর বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের। জানা গেছে, ২০১২ সালে উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের গোমড়া গ্রামে বৈদেশিক অর্থে একটি গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করে সরকার। এ গুচ্ছ গ্রামে ৩০টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। নিয়মানুযায়ী গৃহহীন ছিন্নমূল পরিবারকে পুনর্বাসনের কথা থাকলেও এখানে তা করা হয়নি।

ঘর-বাড়ি ও জমিজমা আছে এমন পরিবারকে গুচ্ছ গ্রামের ঘর দেয়া হয়েছে। তারা ঘর নিয়ে দীর্ঘ একযোগ ধরে ঘর পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, এ গুচ্ছ গ্রামের সভাপতি আব্দুর রহমান একজন অর্থশালী লোক। তার ঘর-বাড়ী জমিজমা ও গরু ছাগল সব কিছুই রয়েছে। অথচ তাকে দেয়া হয়েছে গুচ্ছ গ্রামের সরকারি ঘর। আব্দুর রহমান ঘর নিয়ে অন্যজনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে আব্দুর রহমান গুচ্ছ গ্রামে না থেকেও দীর্ঘ একযোগ ধরে গুচ্ছ গ্রামের সভাপতি হয়ে বসে আছেন। উসমান গনি নামে একজনের ৩টি বাড়ি, জমিজমা ও গরু ছাগল রয়েছে। অথচ তার নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে গুচ্ছ গ্রামের সরকারি ঘর। তিনি ঘর নিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রেখেছেন বলে জানান ওই গ্রামের ইউপি সদস্য গোলাম কিবরিয়া।

অনুসন্ধানের জানা গেছে, গুচ্ছ গ্রামের ৪ নং ঘরটি একজন ক্ষুদ্রনৃ-গোষ্ঠীর নারীকে দেয়া হয়। কিছু দিন পরেই ওই নারীর মৃত্যু হলে ঘরটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। পরে সভাপতি আব্দুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক জনাব আলী উপজেলা প্রশাসনকে না জানিয়ে দেলোয়ার হোসেন নামে একজন বহিরাগত লোকের কাছে ঘরটি বিক্রি করে দেন। ৬ নং ঘরটি মিনা নামে এক নারীকে দেয়া হয়। কিন্তু মিনার বাড়ি থাকায় ঘরটি ফেলে রেখে চলে যায়। পরে সভাপতি ও সম্পাদক টাকার বিনিময়ে মাহা আলী নামে এক বহিরাগতকে স্থান দেয় ওই ঘরে। ১৩ নং ঘর মালিক ঘর ফেলে রেখে চলে যান । পরে সভাপতি ও সম্পাদকের যোগসাজশে ঘরটি কিনে নেয় ১০ নং ঘর মালিক মমেনা বেগম। বর্তমানে ঘরটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ঘর-বাড়ি আছে আব্দুল কাদির কে দেয়া ঘরটি একযোগ ধরেই পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান ২৮ নং ঘরটি জসিম মারাক নামে এক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও ২৯ নং ঘর দেয়া হয় ঘর- বাড়ি আছে জাহেরাকে। জাহেরা ২ বছর ঘরে বসবাসের পর ঘরটি ফেলে রেখে চলে যায় এবং জসিম মারাকের মৃত্যু হলে ঘর ২টি প্রায় একযোগ ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পরে আছে। গত ১ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল দুই ঘরের একটিতে গৃহহীন বিধবা নারী মমেনা বেগম ও একটিতে শেফালী বেগম পুনর্বাসন করে দেন। ঘটনার পরদিন গুচ্ছ গ্রামের কথিত সভাপতি আব্দুর রহমান,সাধারণ সম্পাদক জনাব আলী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম কিবরিয়ার পরস্পর যোগসাজশে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল আলম রাসেলের নির্দেশ অমান্য করে মমেনা বেগমকে ঘর থেকে বের করে দেন।

পরে তারা জাহেরাকে ঢাকা থেকে ডেকে এনে ওই ঘরে তুলে দেন। অপর দিকে শেফালী বেগমকে ও ঘর থেকে বের করে দেওয়ার জন্য তারা গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে প্রকাশ, শেফালী বেগমকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে ওই ঘরে তাদের পছন্দ মতো নাছিমা নামে এক নারীকে রাজশাহী থেকে ডেকে এনেছেন তারা। গুচ্ছ গ্রামের ঘর বানিজ্যের অভিযোগের বিষয়ে গুচ্ছ গ্রামের সভাপতি আব্দুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি ঘর বানিজ্যের অভিযোগ সত্য নয় বলে দারি করেন। মমেনা বেগম ঘর থেকে বের করে দেওয়ার বিষয় সহ গুচ্ছ গ্রামের অন্যান্য বিষয় নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম রাসেলের সাথে কথা হলে তিনি বলেন বিষয়গুলো তার জানা নেই। তবে বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানান।

আজকালের কন্ঠ/আর বি/রিয়াজ