
জাবি প্রতিনিধি : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ৪ টি হলের নতুন নামকরণে প্রস্তাবনা প্রদান করেছে শাখা ছাত্রশিবির।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) বিশ্ববিদ্যলয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সোহেল আহমেদের কাছে এই প্রস্তাবনা জমা দেয় সংগঠনটি।
স্মারকলিপিতে হলগুলোর প্রস্তাবিত নামগুলো হলো – ১০ নং (ছাত্র) হল এর পরিবর্তে শের-এ-বাংলা এ.কে. ফজলুল হক হল, ২১ নং (ছাত্র) হল এর পরিবর্তে শহীদ শ্রাবণ গাজী হল/ শহীদ আসহাবুল ইয়ামিন হল, ১৩ নং (ছাত্রী) হল এর পরিবর্তে শহীদ নাফিসা হোসেন মারওয়া হল, ১৫ নং (ছাত্রী) হল এর পরিবর্তে শহীদ ফেলানি খাতুন হল।
স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন, ‘বাংলার বাঘ’ নামে খ্যাত শের-এ-বাংলা এ.কে. ফজলুল হক উপমহাদেশের একজন প্রজ্ঞাবান ও সর্বজনবিদিত রাজনীতিবিদ, যিনি বাংলা ও বাঙালির অধিকার রক্ষায় অসামান্য অবদান রেখেছেন। কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় আজীবন সংগ্রামী ছিলেন। বাংলার প্রথম নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব ও স্বাধীনচেতা ভূমিকার জন্য তিনি অনুপ্রেরণামূলক।
এছাড়াও তারা উল্লেখ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সাভারে শহীদ আসহাবুল ইয়ামিন ও শহীদ শ্রাবণ গাজী স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের জুলুমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে গিয়ে শাহাদাতবরণ করেন।
সাভারের একমাত্র নারী শহীদ এইচএসসি ফলাফল প্রত্যাশী নাফিসা হোসেন মারওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে স্বতস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছিলেন। ৫ আগস্ট সাভার পাকিজা গার্মেন্টসের সামনের সড়কে পুলিশ ও আওয়ামীলীগ-ছাত্রলীগের সশস্ত্র আক্রমণে বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন তিনি।
২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফের গুলিতে নিহত হন ১৫ বছরের ফেলানি। কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে থাকা তাঁর নিথর দেহ সার্বভৌমত্ব ও মানবাধিকারের লঙ্ঘনের বিশ্বজুড়ে প্রতীক হয়ে ওঠে।
জুলাই আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল প্রেক্ষাপটের কারণে আমরা আজ নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। তাঁদের আত্মত্যাগ আমাদের জাতীয় চেতনার শক্ত ভিত্তি নির্মাণে অনুপ্রেরণা যোগায়। স্বৈরাচার ও আধিপত্যবাদমুক্ত এক সমাজ গড়ার লক্ষ্যে যারা নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন তাদের সংগ্রামী চেতনাকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নির্দিষ্ট না হওয়া উল্লিখিত হলগুলোর নামকরণে আমাদের প্রস্তাবনা বিবেচনা করার দাবি জানাচ্ছি।
আপনার মতামত লিখুন :