
কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : কুয়াকাটায় মসজিদের জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে কলাপাড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল ইসলামকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন স্থানীয় মুসুল্লিরা। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের পর কুয়াকাটার বাইতুল আরোজ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদসহ দুটি মসজিদের মুসল্লিরা একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পেশ ইমাম মাওলানা মাঈনুল ইসলাম মান্নান, কারী নজরুল ইসলাম, মাওলানা সাইফউদ্দিন, মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদারসহ স্থানীয় মুসল্লিরা। বক্তারা অভিযোগ করেন, মসজিদের জমিতে ইউএনওর নির্দেশনায় পাবলিক টয়লেট ও মার্কেট নির্মাণের কাজ চলছে। এ বিষয়ে আপত্তি জানানো হলেও ইউএনও তা আমলে নিচ্ছেন না।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, মসজিদ কমিটির অনুমতি বা কোনো প্রস্তাবনা ছাড়াই ইউএনও নিজেকে কমিটির সভাপতি ঘোষণা করেছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগও তুলেছেন মুসল্লিরা।
এর আগে মঙ্গলবার ও বুধবার একই ইস্যুতে সৈকতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ফটোগ্রাফাররা ইউএনও’র অপসারণ দাবিতে জুতা ও ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভ করেন।
বিক্ষোভ-মানববন্ধনের কিছুক্ষণের মধ্যেই ইউএনও রবিউল ইসলাম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে এক পোস্টে জানান, সংশ্লিষ্ট জমিটি সরকারি মালিকানাধীন এবং সেখানে অবৈধভাবে স্থাপনা গড়ে ভাড়া দিয়ে একটি গোষ্ঠী অর্থ উপার্জন করছিল। জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেই স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, মুসল্লিদের অনুরোধেই তিনি মসজিদ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং মসজিদের স্বার্থে উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন, যার মধ্যে রয়েছে পাবলিক টয়লেট, মার্কেট নির্মাণ এবং ছাতা-বেঞ্চ স্থাপন।
ফেসবুক পোস্টে ইউএনও অভিযোগ করেন, কুয়াকাটা পৌর জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির ও শিক্ষক মাওলানা মাঈনুল ইসলাম মান্নান এবং তার ছেলে রেদোয়ান ইসলাম রাশেলসহ একটি মহল তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান।
কুয়াকাটার পর্যটন খাত সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিদ্যমান ভুল বোঝাবুঝি দ্রুত নিরসন না হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে স্থানীয় পর্যটন শিল্পে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুয়াকাটা বিষয়ক নেতিবাচক প্রচারণা নিয়েও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
আপনার মতামত লিখুন :