কুচক্রী মহলের বিরুদ্ধে নিরীহ পরিবারকে মারপিট হ'ত্যার হু'মকি | Daily AjKaler Kontho

কুচক্রী মহলের বিরুদ্ধে নিরীহ পরিবারকে মারপিট হ’ত্যার হু’মকি


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : মে ১৫, ২০২৫, ৪:০২ অপরাহ্ন
কুচক্রী মহলের বিরুদ্ধে নিরীহ পরিবারকে মারপিট হ’ত্যার হু’মকি

রংপুর স্টাফ রিপোর্টার: নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা উপজেলার শান্তিধারা আবাসিক এলাকায় এক নিরীহ পরিবারের ৩ শতক জমি জবর দখলের ষড়যন্ত্র ও শারীরিক নির্যাতন ও হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী কুচক্রী মহলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদলতে মামলা ও ফতুল্লা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে ভুক্তভোগী।

এঘটনার সংক্রান্তে ভুক্তভোগী রাকিবুল হাসান সাংবাদিকদের জানান, তার পিতা মরহুম ডা. দেওয়ান সুলতান আহমেদ চৌধুরী ৩শতক ক্রয় করে তা স্ত্রী মিসেস পারভিন সুলতান আহমেদ-এর নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। অর্থাত, দলিল তার মায়ের নামে হলেও প্রকৃত অর্থে সম্পত্তিটি তার বাবার টাকায় কেনা, যা পরবর্তীতে পরিবারটির ভোগদখল নিশ্চিত করে।

এরপর ওই জমি রাকিবুল হাসানের নামে নামজারি ও মিউটেশন করা হয় এবং খাজনা ২০২৯ সাল পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়েছে। তিনি জানান, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে মাসুদা গং আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী আল আমিন ও তার সহযোগীরা তার ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে।

এসময় সন্ত্রাসীরা তাকে মারধর করে মাটিতে ফেলে দেয়, যা ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে ধারণ করা হয়েছে। পরে তিনি খানপুর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। মাত্র চারদিন পর, ৪ মে ২০২৫ তারিখে, ওই একই সন্ত্রাসীরা তাকে প্রকাশ্যে “হত্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেবে” বলে হুমকি দেয়, যা এলাকাবাসীর সামনে সরাসরি উচ্চারণ করা হয় এবং ভিডিও ফুটেজে ধারণ হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ফতুল্লা মডেল থানায় অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি করেন এবং জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞচীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-২ এ একটি মামলা দায়ের করেন।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, মৃত ডাক্তার দেওয়ান সুলতান আহমেদ চৌধুরীর একমাত্র ছেলে রাকিবুল হাসানের এই ৩শতাংশ ভোগদখলীয় সম্পত্তির বিরুদ্ধে জাল দলিল তৈরি করে দখল নেবার চেষ্টা করছে গাজীপুর জেলার টঙ্গী উপজেলার আলেরটেক পাগাড় এলাকার মৃত মামুন আহমেদ রনির স্ত্রী মাসুদা বেগম ও তার মেয়ের জামাই আলআমিন, যারা একটি প্রভাবশালী কুচক্রী মহলের সদস্য।

ভুক্তভোগী আরও জানান, গত ৭ মে মাসুদা ও তার লোকজন সন্ত্রাসী কায়দায় তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং তার স্ত্রীকে মারধর করে হুমকি দেয়। এ ঘটনায় তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্ত মাসুদা সাংবাদিকদের কাছে বলেন, “আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে বিরোধ চলছে।” তবে এ বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব ঘটনার দৃশ্যমান প্রমাণের অনেক অসঙ্গতি রয়েছে।

এদিকে, পিবিআই তদন্তে ইতোমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে যে, মৃত মামুন আহমেদ রনি ছিলেন রাকিবুল হাসানের বাড়ির একজন কেয়ারটেকার। ফলে তার পরিবারের মালিকানা দাবি ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে যে, মাসুদা গং স্থানীয় কিছু লোককে টাকা দিয়ে প্রভাবিত করছে, সামাজিকভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং মিথ্যা মামলা ও মানহানিকর মন্তব্যের মাধ্যমে রাকিবুল হাসান ও তার পরিবারকে হয়রানি করে আসছে।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি শরীফুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন—অবিলম্বে কুচক্রী মহলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করছেন। তারা প্রধান উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যেন একজন নিরীহ নাগরিক ও তার পরিবার নিরাপদে বসবাস করতে পারে।