
নিজস্ব প্রতিনিধি: আওয়ামীলীগের নিষিদ্ধের দাবিতে নীলফামারীর সৈয়দপুর, কিশোরগঞ্জ ও জলঢাকা উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জুলাই আন্দোলনে আহত ছাত্র-জনতা ও এনপিপির উদ্যোগে এই আয়োজন করা হয়। শুক্রবার (৯ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় জুলাই আন্দোলনে আহত ছাত্র জনতার ব্যানারে সৈয়দপুর শহরের পাঁচ মাথা মোড়ে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ট্রাফিক পুলিশ বক্সে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, চব্বিশের জুলাইয়ে আওয়ামী লীগ যে গণহত্যা পরিচালনা করেছে তা একাত্তরের ২৫শে মার্চের গণহত্যার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। তবে একাত্তর সালে এদেশে যে গণহত্যা চালিয়েছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। কিন্তু ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে আমাদের দেশের সরকারই গণহত্যা পরিচালনা করেছে। আমাদের করের টাকায় কেনা অস্ত্র দিয়ে আমাদেরই ভাই-বোনদেরকে হত্যা করেছে।
এতগুলো গণহত্যা পরিচালনার পর আওয়ামী লীগের আর বাংলাদেশে রাজনীতি করার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে অবিলম্বে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে এবং ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে গণহত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। যদি খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত এবং আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করা হয়, তাহলে শেখ হাসিনাকে যেভাবে টেনে হিঁচড়ে গদি থেকে নামানো হয়েছে আপনাদেরকেও সেভাবে নামানো হবে। এর জন্য প্রস্তুতি নিন বলে কঠোর হুঁশিয়ার দেন বক্তারা।
বিক্ষোভ মিছিলে সংগঠনটির নেতারা ‘আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে, করতে হবে’, ‘ওয়ান টু থ্রি ফোর, আওয়ামী লীগ নো মোর’, ‘ব্যান ব্যান আওয়ামী লীগ’, ‘গোলামী না আজাদী? আজাদী আজাদী’,’জুলাইয়ের হাতিয়ার, গর্জে ওঠো আরেকবার’ আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না’, ‘আবু সায়িদ মুগ্ধো ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দিবোনা’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।
সৈয়দপুর জুলাই বিপ্লবের অন্যতম নেতা শাকিল চৌধুরীর সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন মো, মাহিন, মো. মেহরাব, মো. নয়ন, মোবারক, আসিফ, মো. ইমান, মো. শাহিদ, মো. সজীব, মো. কবির প্রমুখ। এই কর্মসূচিতে দুই শতাধিক ছাত্র জনতা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সৈয়দপুরের পার্শ্ববর্তী কিশোরগঞ্জ উপজেলাতেও গণহত্যাকারী দূর্নীতিবাজ আওয়ামী লীগের বিচার ও রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ছাত্র জনতা।শুক্রবার (৯ মে) সন্ধ্যা ৬ টায় স্থানীয় মিনি স্টেডিয়াম থেকে ছাত্র জনতার একটি বিক্ষোভ বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
দ্যা রেড জুলাই কিশোরগঞ্জ উপজেলা শাখার আহবায়ক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মোতালেব হোসেন’র সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা জামাযাতের টীম লিডার আব্দুল ওয়ারেছ, উপজেলা জামাযাতের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দোকান মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক শিব্বির আহমেদ, উপজেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি মোজাহিদ, এনসিপির আব্দুল কাইয়ুম, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের একলাছুর রহমান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শাহজাহান শামিম, সফিয়ার রহমান, লাদেন প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, আমাদের এক দফা এক দাবি অবিলম্বে গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগের বিচার ও রাজনৈতিক সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে। অন্যথায় তীব্র আন্দোলনের হুশিয়ারী দেন বক্তারা।
অপরদিকে জলঢাকাতে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে এনসিপি। সংগঠনটির জলঢাকা উপজেলা শাখার উদ্যোগে এই কর্মসূচী পালন করা হয়।
প্রথমে বিক্ষোভ মিছিল প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জলঢাকার জিরো পয়েন্ট মোরে সমাবেশে মিলিত হয়। এতে রিয়াজুল ইসলাম রাজুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উত্তরাঞ্চল সমন্বয়ক আবু সাঈদ লিওন। তিনি বলেন আমরা শান্তি প্রিয় এই জলঢাকা কে আর অশান্ত করতে দেবো না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে হবে। অতিলম্বে তাদের যারা দূস্কৃতিকারী, হত্যাকারী, চাঁদাবাজ, তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
মোহাইমিনুর রহমান (সানা) বলেন, আমরা আগেও জোরালোভাবে আন্দোলন করেছি এখনো যদি আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ না হয়, আমরা মাঠেই থাকবো ইনশাআল্লাহ।
আপনার মতামত লিখুন :