
মো:রোকনুজ্জামান ,গাজীপুর : গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত লাখ টাকার সরকারি ঔষধ বিতরণ না করে স্টোরে মজুদ করে রাখায় তা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যাদের ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি জানান, অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এ ঘটনায় কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, “স্টোর কিপার আব্দুর রাজ্জাকের উদাসীনতা ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে কয়েক লাখ টাকার ঔষধ নষ্ট হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি গোপন রেখে তিনি স্টোর রুমে না রেখে অন্যত্র ওষুধ মজুদ করেছিলেন।”
এ বিষয়ে গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান বলেন, “সরকারি ঔষধের হিসাব না দেওয়ায় আব্দুর রাজ্জাককে প্রায় ১০ বার শোকজ করা হয়েছে। এরপরও কোনো সদুত্তর তিনি দেননি।” তিনি এই গাফিলতির জন্য সাবেক স্টোর কিপারকে সরাসরি দায়ী করেন।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিনামূল্যে দেওয়া ঔষধ সামান্যই পাওয়া যায়। অথচ হাসপাতালেই বিপুল ঔষধ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়ে ছিল। হাসপাতালের চিকিৎসা নিতে আসা আবদুল করিম বলেন, “প্রায় সময় চিকিৎসা নিতে এসে কিছু ওষুধ ফ্রি পাই, তবে খুব অল্প। এখন জানলাম অনেক ওষুধ নষ্ট হয়ে গেছে, এটা অন্যায়। ওই স্টোর কিপারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। সরকারি সম্পদের এমন অপচয়ের পেছনে কারা জড়িত, তদন্তে সঠিকভাবে বেরিয়ে আসবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মতামত লিখুন :