তারাগঞ্জে দেশীয় পদ্ধতিতে আলু সংরক্ষণ ও আলোচনা সভা | Daily AjKaler Kontho

তারাগঞ্জে দেশীয় পদ্ধতিতে আলু সংরক্ষণ ও আলোচনা সভা


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১৪, ২০২৫, ৪:২৩ অপরাহ্ন
তারাগঞ্জে দেশীয় পদ্ধতিতে আলু সংরক্ষণ ও আলোচনা সভা

সোহেল রানা প্রতিনিধি, তারাগঞ্জ (রংপুর) : রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাগণ বিভিন্ন গ্রাম অঞ্চল ঘুরে ঘুরে আলু সংরক্ষণের বিষয়ে গ্রামের কৃষকদের নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার ইকরচালী, কুর্শা, আলমপুর, সয়ার, হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নসহ ৫টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে কৃষি কর্মকর্তাগণ গত ১মাস থেকে এ আলোচনা সভা অব্যাহত রেখেছে। এ বিষয়ে তারাগঞ্জ উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বসুনিয়া বলেন, আলু আমাদের অন্যতম প্রধান সবজি।

প্রতি বছর গড়ে ৯০ লাখ থেকে ১ কোটি মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়। কিন্তু এ পরিমাণ আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করা সম্ভব হয় না। দেশীয় পদ্ধতিতে আলু ৩-৪ মাস ভালোভাবে সংরক্ষণ করা যায় এবং এরপর বিক্রি করলে বেশি লাভবান হওয়া যায়। তবে মনে রাখতে হবে দেশীয় পদ্ধতিতে সংরক্ষিত আলু শুধু খাবার আলু হিসেবেই ব্যাবহার করা যাবে।

কৃষক পর্যায়ে আলু সংরক্ষণ করতে কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। নিয়মগুলো হলো- পরিপক্ক আলু মেঘলা বা বৃষ্টির দিনে না তুলে রৌদ্রোজ্জ্বল সকালের দিকে তুলতে হবে। আলু তোলার সময় যাতে কোদাল বা লাঙলের আঘাতে কোনো ক্ষত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে এবং চঠের বস্তায় আলু ভরার সময় বঁাশের ঝুড়ির পরিবর্তে প্লাষ্টিকের ঝঁুড়ি বা গামলা ব্যবহার করতে হবে। আলু সংগ্রহ শেষে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাড়িতে নিয়ে যেতে হবে।

যদি কোনো কারণে আলু ক্ষেতে রাখতে হয় তখন ছায়াযুক্ত জায়গায় বিছিয়ে পাতলা কাপড়-খড়-কচুরি পানা দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। বাড়িতে এনে আলু ১-৭ দিন পরিস্কার ঠাণ্ডা জায়গায় বিছিয়ে রেখে পাতলা কাপর দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। আলু সংরক্ষণ করার আগে কাটা, ফাটা, সবুজ, রোগাক্রান্ত পঁচা আলু ফেলে দিয়ে আকার অনুযায়ী বড়, মাঝারি ও ছোট হিসেবে বাছাই করতে হবে। বাছাই করা আলু ঠাণ্ডা ও বাতাসযুক্ত ঘরে মেঝে থেকে ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি উঁচুতে মাচা করে তাতে ১০ থেকে ১২ ইঞ্চি পুরু করে সংরক্ষণ করতে হবে। এক মাচা থেকে আরেক মাচার দূরুত্ব ২.৫ থেকে ৩ ফুট দুরে রাখতে হবে এবং সবার ওপরের মাচাটি ছাদ থেকে ৩ থেকে ৫ ফুট নিচে থাকলে ভালো হয়; নির্বাচিত ঘরটিতে যদি আগের বছর আলু রাখা হয়ে থাকে তবে তা অবশ্যই পরিষ্কার করে নিতে হবে।

এরপর কীটনাশক ছিটিয়ে পোচামুুক্ত করে নিতে হবে যতে আগের বছরের কোনো পোকা সংরক্ষিত আলুতে আক্রমণ না করতে পারে। যেভাবেই সংরক্ষণ করা হোক না কেন সংরক্ষিত আলু ২০ থেকে ২৫ দিন পর পর নিয়মিত বাছাই করতে হবে। রোগাক্রান্ত, পোকা লাগা ও পঁচা আলু দেখামাত্র সংপ্রহ করে দূরে ফেলে দিতে হবে। খাবারের উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত আলুতে কীটনাশক ব্যবহার না করে নিম বা বিষকাটালি বা ল্যান্টানার শুকনা পাতা ওপরে বিছিয়ে দিতে হবে।

যেসব এলাকায় টিউবার মথ বা সুতালি পোকার আক্রমণ আছে সেখানে গুদাম ঘরের জানালায় অবশ্যই চিকন তারের জালি দিতে হবে। তাছাড়া আলুর স্তুপ মশারি দিয়ে ঢেকে রাখা যেতে পারে। তারাগঞ্জ উপজেলার আলু চাষি কৃষক রবউিল ইসলাম রবি বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে আমি এ বছর নিজে আলু সংরক্ষণ করছি। আলু খুভ ভালো আছে। তারা আলু সংরক্ষণ দেখে এখন ওই গ্রামের আশপাশের মানুষও উৎসাহিত হচ্ছে।