শরীয়তপুরের নরসিংহপুর নৌপুলিশের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ | Daily AjKaler Kontho

শরীয়তপুরের নরসিংহপুর নৌপুলিশের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১০, ২০২৫, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন
শরীয়তপুরের নরসিংহপুর নৌপুলিশের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

মো: নাসির খান (শরীয়তপুর): শরীয়তপুরের মেঘনা নদীর গোসাইরহাট কোদালপুরের নদীপথে মাছ ব্যবসায়ীরা বরিশাল থেকে বড় ইলিশ, চিংড়ি, পোয়া মাছ সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নিয়ে আসার সময় নরসিংহপুর নৌপুলিশের বিরুদ্ধে মাছ লুট সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

নরসিংহপুর নৌপুলিশ ইনচার্জ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মাছ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক মাছ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।৮ এপ্রিল মঙ্গলবার ভোরে গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর লঞ্চঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মঙ্গলবার ভোরে ৮শ’ কেজি মাছ নিয়ে ট্রলার যোগে কোদালপুর আড়তের দিকে যাচ্ছিলেন মাছ ব্যবসায়ীরা।এসময় একটি স্পিডবোটে করে নরসিংহপুর ফাঁড়ীর ইনচার্জ সহ পাঁচ পুলিশ সদস্য এসে মাছ ভর্তি ট্রলার আটক করেন।

এরপর ব্যবসায়ীদের ট্রলার থামিয়ে মাছগুলো তাদের বোটে তুলে নেন পুলিশ সদস্যরা। মাছগুলো বোটে তুলে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে স্থানীয় সাবেক দুই ইউপি সদস্য সহ একজন এগিয়ে আসলে তাদেরকে মারধর করে হাতকড়া পরিয়ে ধরে নিয়ে যায় নৌপুলিশের ইনচার্জ মো: ইয়াছিনুল হক।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কোদালপুর আড়তের মাছ ব্যবসায়ী রুহুল আমিন সিকদার বলেন, “আমার কর্মচারীরা মাছ নিয়ে আড়তে যাচ্ছিল। ট্রলারটিতে বড় ইলিশ, চিংড়ি, পোয়া মাছ সহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় আট লাখ টাকার মাছ ছিল। আমাদের ট্রলারটিতে কোনো জাটকা মাছ ছিল না।

এসময় তাদের দিকে একটি স্পিডবোট এগিয়ে আসতে দেখে ডাকাত ভেবে ভয়ে নদীতে ঝাপিয়ে পড়ে শ্রমিকরা। পরে বোটটি সামনে আসলে পুলিশের পোশাক দেখে শ্রমিকরা ট্রলারে গেলে তাদের হুমকি দিয়ে পুলিশ মাছগুলো ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আমার প্রায় ৮ লাখ টাকার মাছ লুট করেছে পুলিশ। আমি তদন্ত পূর্বক পুলিশের বিচার দাবি করছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নরসিংহপুর নৌ-পুলিশ ইনচার্জ ইয়াছিনুল হক বলেন, “আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করি, যেখানে অবৈধ জাল, মাছ বা অনুমোদনহীন কার্যক্রম পেলে তা জব্দ করা হয়।

ঘটনার দিন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি বিপুল পরিমাণ জাটকা নিয়ে একদল অসাধু ব্যবসায়ী বিক্রির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে। আমি সাথে সাথেই আমার ফোর্স নিয়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে ৩’শ কেজি নিষিদ্ধ জাটকা সহ তিনজনকে আটক করে নিয়ে আসি। তাদের ছাড়িয়ে নিতে আমাদের ওপর ডাকাত বলে একদল উশৃংখল মানুষ হামলা করার চেষ্টা করে।

আমরা মাছ এবং আসামি নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে ফাঁড়ীতে চলে আসি। মাছগুলো বিভিন্ন এতিমখানায় বিলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আসামিদের আদালতে মৎস আইনের মামলা দিয়ে সোপর্দ করা হয়েছে। কেউ যদি আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, তবে সেটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।