
আজকালের কন্ঠ ডেস্ক : মিয়ানমারে ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবনে উদ্ধার তৎপরতা চলছে।অন্তর্বর্তী সরকারে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে মিয়ানমারে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় দ্বিতীয় দফায় সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী এবং ফায়ার সার্ভিসসহ একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল পাঠাচ্ছে। ৩৪ সদস্যের এই দলটির সঙ্গে থাকছে ২১ সদস্যের একটি চিকিৎসক দল। যারা ১৫ দিনের প্রস্তুতি নিয়ে রওনা হচ্ছেন।
ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মোট ১৫ টন ত্রাণ সামগ্রী ও সরঞ্জাম প্রেরণ করা হচ্ছে। এসবের মধ্যে রয়েছে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ এবং তাঁবু। সেনাবাহিনীর একটি এবং বিমান বাহিনীর দুটিসহ মোট তিনটি বিমানে করে এই ত্রাণ ও উদ্ধার সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে।
এর আগে রোববার (৩০ মার্চ) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে জানানো হয়, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে ওষুধ ও ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী জরুরি ত্রাণ সহায়তা পাঠাতে কাজ শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে আজ (৩০ মার্চ রোববার) দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি কুর্মিটোলা থেকে ১টি সি-১৩০জে বিমান এবং আর্মি এভিয়েশনের ১টি কাসা সি-২৯৫ডব্লিউ বিমান মায়ানমারের ইয়াংগুনের উদ্দেশ্যে রওনা করেছে।
দেশটিতে পাঠানো ১৬ দশমিক ৫০ টন ত্রাণ সহায়তার মধ্যে রয়েছে শুকনো রেশন, বিশুদ্ধ পানি, খাবার স্যলাইন, তাঁবু, হাইজিন প্রোডাক্টসহ নিত্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য সামগ্রী।
যে ত্রাণসামগ্রী মিয়ানমারে পাঠানো হচ্ছে তা পরিকল্পিত ত্রাণ সহায়তার একটি অংশমাত্র উল্লেখ করে আরও জানানো হয়েছে, পরবর্তীতে মিয়ানমার সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে আরও ত্রাণ সহায়তা এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে উদ্ধারকারী ও চিকিৎসা সহায়তাকারী দল পাঠানো হবে।
পাশপাশি দেশটিতে উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২০ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স থেকে ১০ সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (২৮ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে মিয়ানমারে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর কেন্দ্রস্থল ছিলো দেশটির উত্তর-পশ্চিমের শহর সাগাইং থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে। এলাকাটি রাজধানী নেপিদো থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তরে।
এরইমধ্যে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছেন তিন হাজার ৪০৮ জন। এছাড়া এখনও নিখোঁজ রয়েছেন শতাধিক।
ব্যাপক এই ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে মিয়ানমারের প্রতিবেশী থাইল্যান্ড, দক্ষিণ-পশ্চিম চীন, ভারত, ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়া ও বাংলাদেশেও। এই সাত দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে থাইল্যান্ডের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে কয়েকটি বহুতল ভবন ধসে পড়ায় এখনও নিখোঁজ আছেন শতাধিক মানুষ। এছাড়া দেশটিতে এ পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে ১০ জনের মরদেহ। এরা সবাই ভূমিকম্পে ভবন ধসে মারা গেছেন।
আপনার মতামত লিখুন :