হাঁস পালন করে সফল উদ্যোক্তা হওয়া স্বপ্ন দেখছেন বাবা ও মেয়ে | Daily AjKaler Kontho

হাঁস পালন করে সফল উদ্যোক্তা হওয়া স্বপ্ন দেখছেন বাবা ও মেয়ে


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : মার্চ ১১, ২০২৫, ৩:৫১ অপরাহ্ন
হাঁস পালন করে সফল উদ্যোক্তা হওয়া স্বপ্ন দেখছেন বাবা ও মেয়ে

দুমকি(পটুয়াখালী)সংবাদদাতা: সমগ্র খামার জুড়ে নানা বর্ণের হাঁসের পদচারণায় মুখর। নিজেদের স্বভাব জাত ডাকাডাকি আর মনের আনন্দে ছুটাছুটি পুরো পরিবেশকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। কখনো ডাঙায় আবার কখনও পানিতে সরব বিচরণ দেখতে বেশ ভালো লাগে। সকালে পুরো খামারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে সাদা ও বাদামী রঙের ডিম সংগ্রহে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন খামারি।

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার দক্ষিণ মুরাদিয়া গ্রামে হাঁস পালনে সাফল্যের সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখছেন মোশারেফ হোসেন মাঝি ও তার মেয়ে মারুফা আক্তার। মাত্র সাড়ে মাস মাস পূর্বে নিজের বাড়ির আঙিনায় পতিত অনাবাদি জমি ও মজা পুকুর বেস্টিত ৭৮ শতাংশ জমির উপর গড়ে তোলেন হাঁসের খামার। নভেম্বর মাসের শুরুতে ২মাস বয়সের প্রতিটি ২’শ টাকা হিসেবে মোট ১৪’শ খাকি ক্যাম্বল ও চিংডিং জাতের হাঁসের বাচ্চা ক্রয় করে লালন পালন শুরু করেন। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৭শতাধিক ডিম সংগ্রহ করে।

খামারের মালিক মোশাররফ হোসেন মাঝি জানান, আগে ঢাকায় বিভিন্ন কাজকর্ম করে দিন যাপন করতাম। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ায় পরিবারসহ বাড়ি এসে হাঁসের খামার গড়ে তুলি এবং ১৪’শ হাঁসের বাচ্চা ক্রয় করে লালন পালন শুরু করি। এতে প্রায় ৫লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হয়। গত ২মাস যাবৎ হাঁসে ডিম দেয়া শুরু হয় এবং পর্যায়ক্রমে প্রতিদিন বাড়ছে। বর্তমানে গড়ে ৭’শতাধিক ডিম সংগ্রহ করতে পারি।

মোশারেফ মাঝির মেয়ে মারুফা আক্তার বলেন, হাঁসের খাবার বাবদ প্রতি দিন ৬হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতিটি ডিম ১৫ টাকায় পাইকারি দিচ্ছি। পটুয়াখালী ও দুমকি থেকে পাইকাররা এসে ডিম নেয়। স্থানীয় লোকজন‌ও বাড়ি থেকে ডিম কিনে নেয়। খরচ বাদে প্রতিদিন গড়ে ৩থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা আয় হচ্ছে।

এছাড়াও গড়ে ৭’শ টাকা হিসেবে খামারে ৯লক্ষাধিক টাকার হাঁস রয়েছে এবং প্রতিদিনের ডিম বিক্রির টাকা বাড়তি লাভ। শুটকি, ভুট্টা, চালের কুঁড়া, ঝিনুক ও শামুকের গুঁড়া, ডালের গুঁড়া একসঙ্গে মিশিয়ে মেশিন ভাঙ্গিয়ে হাঁসের খাবার তৈরি করে খাওয়ানো হচ্ছে। রোগ প্রতিরোধে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ভেকসিন প্রয়োগ করছি।

এ ব্যাপারে ছেলে মশিউর রহমান জানান, খামারে ডিমের পাশাপাশি মাংসের জন্য অন্য জাতের হাঁস পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও আমাদের হাঁসের খামারের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির শতাধিক কবুতর‌ও পালন করি। তা থেকেও মাসে ৩৫/৪০ জোড়া বাচ্চা বিক্রি করা হচ্ছে। তবে তিনি জানান, এব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে কোন রকম সহযোগিতা পাচ্ছি না।