
গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধা সদর উপজেলার উত্তর গিদারী প্রধানের বাজার এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে এক বৃদ্ধসহ দুই নারীকে নৃশংসভাবে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ তারা মিয়া (৬২) সদর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে একই এলাকার কয়েকজন সন্ত্রাসী পরিকল্পিতভাবে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। অভিযুক্তরা হলেন— মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (৪২), মোঃ জাহিদুল ইসলাম (৪৫), মোঃ ছলিম উদ্দিন (৪৫), মোঃ ছাবেদ আলী (৪৮) এবং মোঃ কাচু মিয়া (৪৭)।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ২৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টার দিকে তিনি তার ভ্যানে করে কামারজানি বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে আসামিরা তার ভ্যানের পথরোধ করে মামলা তুলতে বললে তিনি রাজি না হওয়ায় তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। আসামী জাহাঙ্গীর আলম লোহার রড দিয়ে তার হাঁটুতে আঘাত করে, ফলে তার হাঁড় ভেঙে যায়। এছাড়া, জাহিদুল ইসলাম গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা চালায় এবং ছলিম উদ্দিন বুকে লাথি মেরে গুরুতর জখম করে।
এ সময় তার সঙ্গে থাকা নারী স্বজনরা বাধা দিতে গেলে তাদেরও মারধর করা হয়। এমনকি ছাবেদ আলী এক নারী ভুক্তভোগীর শাড়ি ধরে টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি ঘটায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা চিৎকার শুনে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা হত্যার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে প্রত্যক্ষদর্শীদের সহায়তায় আহতরা গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মোঃ তারা মিয়া বলেন, “আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল। মামলা তুলতে না চাওয়ায় তারা আমাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।”
গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, “ভুক্তভোগীর অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক, যাতে এ ধরনের অপরাধ আর না ঘটে।
আপনার মতামত লিখুন :