লোহাগড়ায় প্রবাসীর স্ত্রীসহ দুই বোনকে দেবর, ননদ ও শাশুড়ির মারপিট, হাসপাতালে ভর্তি | Daily AjKaler Kontho

লোহাগড়ায় প্রবাসীর স্ত্রীসহ দুই বোনকে দেবর, ননদ ও শাশুড়ির মারপিট, হাসপাতালে ভর্তি


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : মার্চ ১, ২০২৫, ৫:০১ অপরাহ্ন
লোহাগড়ায় প্রবাসীর স্ত্রীসহ দুই বোনকে দেবর, ননদ ও শাশুড়ির মারপিট, হাসপাতালে ভর্তি

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধিঃ নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়নের তালবাড়িয়া গ্ৰামের সোনা মল্লিকের ছেলে সিহাব মল্লিক তিনি গত ৯ বছর পূর্বে লোহাগড়া উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের আড়িয়ারা গ্ৰামের খায়ের শেখের মেয়ে রিমা খানমকে বিবাহ করেন।

২ বছর পর্যন্ত তাদের দাম্পত্য জীবন ভালো ভাবেই চলে আসছিল। মেয়ের বাবা খায়ের শেখ, মেয়ে রিমা খানমের সুখের কথা চিন্তা করে তার স্বামী সিহাব মল্লিককে টাকা খরচ করে সৌদিতে পাঠায়।

মেয়েকে ৩ মাসের গর্ভবতী অবস্থায় রেখে যায়, বর্তমান মেয়েটির গর্ভের ৮ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

কিন্তু পাষাণ হৃদয়ের সৌদি প্রবাসী সিহাব মল্লিক প্রবাস জীবন ৯ বছর পার হলেও এখন ও পর্যন্ত দেশে ফেরে নাই। স্ত্রী ও সন্তানের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগও রাখে নাই।

সিহাব মল্লিকের মেয়ের বয়স ৮ বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত তার বাবার চেহারাটা পর্যন্ত দেখতে পায়নি।
একই বাড়িতে রিমা খানমের বড় বোন তাসলিমা খানমের বিবাহ হয়। তাসলিমা খানমের স্বামী মহসিন মল্লিকও সৌদি প্রবাসী ছিলেন। বর্তমানে তিনি দেশেই আছেন।

একই বাড়িতে ২ বোনের বিবাহ হয়, তাসলিমার স্বামী মহসিন মল্লিক ও রিমার স্বামী সিহাব মল্লিক।

রিমা খানম বলেন, আমি ৯ বছর দাম্পত্য জীবনে সুখ যে কি জিনিস সেটি আজও পর্যন্ত পায়নি। বিয়ের ২ বছর পরেই স্বামী প্রবাস জীবনে চলে যায়।

৯ বছর হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সে দেশে ফিরলেন না।
সে আমাকে কোন প্রকার টাকা পয়সা দেয় না। কোন ধরনের যোগাযোগ করে না, তার মা, বোন ও ভাইদের দিয়ে আমার উপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়।

এবং আমাকে ডিভোর্স দিবে বলে ভয়ভীতি দেখায়।

বিষয়টি মিমাংসার উদ্দেশ্যে শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তালবাড়িয়া গ্ৰামের রিমার শশুর বাড়িতে রিমা খানম ও তার বোন তাসলিমা খানমসহ উভয়পক্ষের লোক জন মিলে একটি সালিশ বৈঠক করেন।

সালিশ বৈঠকে উভয়পক্ষের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যে দিয়ে এক পর্যায়ে তর্কের সৃষ্টি হয়,
রিমা খানম ও তাসলিমা খানম কে তার দেবর ননদ ও শাশুড়ি মিলে বেধড়ক মারপিট করে গুরুতর আহত করে। বর্তমানে দুই বোন লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

রিমা খানম ও তার বোন তাসলিমা খানম প্রশাসনের কাছে এই বর্বরতা ও নির্যাতনের বিচার দাবি করেন।