
হোমনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : কুমিল্লার হোমনায় স্বামীর আত্মহত্যা কে কেন্দ্র করে গৃহবধুকে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে স্বামীর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চান্দেরচর ইউনিয়নের মাইঝচর-শোভারামপুর এলাকায়। ভুক্তভোগী গৃহবধু তানিয়া (২০) আক্তার একই এলাকার হাবিব মিয়ার মেয়ে।
ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে একই গ্রামের জলিল মিয়ার ছেলে মো. নাজিমের সাথে তানিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নজিম ও তার পরিবারের লোকজন তানিয়া কে যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকে। তানিয়া বাবার বাড়ি থেকে কয়েক দফায় যৌতুক আনেন।
কিন্তু তারা আবার জায়গা কেনার নাম করে পাঁচ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করে।এতে তানিয়া অস্বীকৃতি জানালে নাজিম ও তার পরিবারের লোকজন তানিয়াকে প্রায়ই মানসিক নির্যাতন করতো, এক পর্যায়ে মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তানিয়া বাবার বাড়িতে চলে যায়।
পরিবার সূত্রে আরও জানাযায়, শ্বশুরবাড়ি পার্শ্ববর্তী হওয়ায় তার শশুর বাড়ির লোকজন তার বাড়িতে এসে বিভিন্নভাবে যৌতুকের টাকা দাবি করতে থাকে, না দিতে পারলে তার পরিবারকে নানান রকমের হুমকি দিয়ে ছিল। এরপর তানিয়া বাধ্য হয়ে গত কয়েকদিন পূর্বে আদালতের মাধ্যমে তার স্বামীকে ডিভোর্স দেয়।
এই বিষয়ে তানিয়া আক্তার বলেন, বিয়ের পর থেকেই নাজিম ও তার পরিবারের লোকজন যৌতুকের জন্য আমাকে মারধর ও অত্যাচার করতো। আমার বাবার বাড়ি থেকে কয়েক দফায় যৌতুক দিয়েছে। কিন্তু তারা আবার জায়গা কেনার নাম করে বাবার বাড়ি থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা যৌতুক এনে দিতে বলে। না দিলে মারধর করবে বলে জানায়। ভয়ে আমি বাধ্য হয়ে তাকে তালাক দেই। শুনেছি সে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করেছে।
কিন্তু কি কারনে আত্মহত্যা করেছে তা আমি জানি না। এখন তার পরিবার উল্টা আমাকে ও আমার পরিবার কে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাসাবে বলে জানাচ্ছে। এতে আমি ও আমার পরিবার ভয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। এ ছাড়াও আমি অন্তঃস্বত্ত্বা ছিলাম না। কিন্তু আমি অন্তঃসত্ত্বা ছিলাম বলে আমার স্বামীর বাড়ির লোকজন মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিচ্ছে।
এ ব্যাপারে মুরাদনগরের এসআই আলমগীর তালুকদার জানান, সংবাদ পেয়ে নাজিমের লাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে সুরতাহাল রিপোর্ট তৈরী করে পোস্টমর্টেমের জন্য কুমিল্লা মেডিকেলে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম।
আপনার মতামত লিখুন :