
মনির খান, তজুমদ্দিন(ভোলা)প্রতিনিধি : ৮০ বছরের বৃদ্ধ মফিজুল হক পূর্ব পুরুষের ঐতিহ্য ধরে রাখতে এখনো খেজুর গাছে উঠে গাছ কেটে রস সংগ্রহ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। এক সময় ভোলার প্রতিটি উপজেলার গ্রামগঞ্জের রাস্তার দুপাশে সারি সারি খেজুরের গাছ ছিল। মফিজুল হক নিজে আগে একাই খেজুর গাছ কাটতেন ২০০ থেকে ২৫০ কালের বিবর্তনে এসে এখন আর সেই গাছের দেখা মিলছে না গ্রামগঞ্জে। শীত মৌসুমে খেজুর গাছ থেকে রস পেড়ে বাসায় রান্না করে খাওয়ার সেই ঐতিহ্য ভুলতে বসেছে তরুণ প্রজন্ম।
ক্ষতিকারক পোকামাকড়,গাছ কাটার প্রবণতা ও নতুন গাছ না লাগানোর ফলে খেজুর গাছের সংখ্যা কমে গেছে।পরিবেশ রক্ষা ও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে খেজুর গাছ রোপণে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান এলাকার সচেতন মহল।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা বলেন, সাম্প্রতিককালে কিছু কিছু এলাকায় কৃষকদের খেজুর গাছ লাগানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বাড়ির আনাচে-কানাচে, রাস্তার পাশের পরিত্যক্তস্থানে কৃষকেরা পর্যাপ্ত পরিমাণ খেজুর গাছ রোপন করলে ভবিষ্যত প্রজন্মকে খেজুরের রস ও গুড়ের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।
খেজুর গাছ বিলুপ্ত হওয়া শুধু পরিবেশের উপর প্রভাব ফেলছে না, বরং জীবিকা নির্বাহকারী এই পেশাজীবীদের ভবিষ্যৎকেও অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে।
প্রকৃতির ভারসাম্য এবং আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য বাঁচাতে এখনই প্রয়োজন সক্রিয় উদ্যোগ। খেজুর গাছ শুধু একটি গাছ নয়, এটি আমাদের অতীত, আমাদের সংস্কৃতি।
আপনার মতামত লিখুন :