নোয়াখালীতে বিএনপির নেতার ওপর হামলায় বিক্ষোভ মিছিল | Daily AjKaler Kontho

নোয়াখালীতে বিএনপির নেতার ওপর হামলায় বিক্ষোভ মিছিল


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১২, ২০২৪, ৩:০৬ অপরাহ্ন
নোয়াখালীতে বিএনপির নেতার ওপর হামলায় বিক্ষোভ মিছিল

নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বিএনপির নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংগতি দিবসে অনুষ্ঠানে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক নুরুল আলম শিকদারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় রাত ৮টায় শিকদারের সমর্থকেরা বিক্ষোভ মিছিল মিছিল করেন বসুরহাট বাজারে।

গত সোমবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংগতি দিবস অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় বসুরহাট রুপালী চত্বরে আলোচনা শেষে মিছিলে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা গণমাধ্যমকে জানান, আলোচনা সভায় প্রবাসীদের হুমকি দিয়ে বক্তব্য দেন নুরুল আলম সিকদার। পরে বসুরহাট বাজারে মিছিলের সামনে যেতে চাইলে বসুরহাট সরকারী মুজিব কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সদস্য আমেরিকা প্রবাসী মো. কামাল উদ্দিনকে ধাক্কা দেন শিকদার।

এসময় দুজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে উপজেলা চত্ত্বরে মিছিল শেষে শিকদারের ওপর হামলা করে ক্ষুব্দ নেতাকর্মীরা। এসময় বিএনপির অন্যান্য নেতারা তাকে উদ্ধার করে একটি সেলুন দোকানে নিয়ে আসে।

এরআগে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নুরুল আলম সিকদার বলেন, ‘কিছু ব্যক্তি বিএনপির দুঃসময়ে পালিয়ে গিয়ে দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। এখন অনেকে দেশে এসে বিএনপি নেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। আপনারা মিছিলের সামনে আসার চেষ্টা করবেন না। আপনারা থাকবেন নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পিছনে। সামনে আসতে চাইলে আওয়ামী লীগের মির্জা এবং কাউয়া কাদেরের ১৭ বছরে সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী, খুনি, লুটেরা, চাঁদাবাজদের যে ব্যবস্থা করা হবে আপনাদেরও ঠিক সেই ব্যবস্থা করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নেতার অভাব নাই ভোটারেরও অভাব নাই। আপনারা (প্রবাসীরা) এসে বিএনপির জন্য মায়া কান্না করবেন না। আমি আমার নেতাকর্মীদেরকে বলবো কাদের মির্জা ও কাউয়া কাদেরের সন্ত্রাসী অস্ত্রধারী চাঁদাবাজদের যেখানে পাবেন হাত-পা ভেঙে কুচা কুচা করে রাস্তার পাশে কূলে ফেলে রাখবেন। এতে আমার চাকরী (পদ) গেলেও যাক। তবে কোন সাধারণ মানুষ, তাদের বাড়িঘর বা হিন্দু বাড়িতে হামলা করবেন না। যদি করেন তিনি যতো নির্যাতিত হন না কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রবাসী কামাল উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, নুরুল আলম সিকদার মেয়াদোত্তীর্ণ উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক। তিনি গত ৫ আগস্টের পর থেকে চাঁদাবাজি, ঘের দখল, বালু মহালসহ পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের থেকে টাকা হাতিয়ে দলের ভাবমুর্তি ক্ষুণ্ন করছেন। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তিনি আমাদের সহ্য করতে পারছেন না। সোমবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনায় নানা কটু কথা বলেন। পরে মিছিলে আমাকে ধাক্কা মারেন। এরপর উপজেলায় গিয়ে আমার দিকে তেড়ে আসতে চাইলে নেতাকর্মীরা গণপিটুনি দেয়।

এসব বিষয়ে জানতে উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক নুরুল আলম শিকদার গণমাধ্যমকে বলেন, কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী বিশৃঙ্খলা করেছে। তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার ওপর কোন হামলার ঘটনা ঘটেনি। নেতাকর্মীরা আমাকে স্কট দিয়ে নিয়ে আসে।

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাহমুদুর রহমান রিপন গণমাধ্যমকে জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের কারনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।