রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে বিএনপি এ অবস্থান যে কারণে | Daily AjKaler Kontho

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে বিএনপি এ অবস্থান যে কারণে


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৫, ২০২৪, ১১:২২ পূর্বাহ্ন
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে বিএনপি এ অবস্থান যে কারণে

আজকালের কন্ঠ ডেস্ক :  রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলের নেতারা মনে করেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে দেশে সাংবিধানিক সংকট ও শূন্যতা সৃষ্টি হবে, যা তৃতীয় পক্ষের জন্য সুযোগ এনে দিতে পারে। এজন্য দলটি সংস্কার ও দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। বুধবার, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের’ পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি ওঠার পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

দেখা করার পর তাদের পক্ষে নজরুল ইসলাম খান বৈঠক সম্পর্কে সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশে যাতে নতুন করে সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি না হয় সেজন্য খেয়াল রাখতে বলেছি। আমরা কোনো সাংবিধানিক সংকট চাই না। পতিত স্বৈরাচারের দোসররা যদি কোনো সাংবিধানিক বা রাজনৈতিক সংকট তৈরির চেষ্টা করে, তাহলে আমরা গণতন্ত্রকামীরা তা প্রতিহত করব।’

সালাহউদ্দিন আহমেদ বিএনপির চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে আরেক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির পদে শূন্যতা এই মূহুর্তে রাষ্ট্রীয় সংকট সৃষ্টি করবে। সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি করবে। যেটা জাতির কাম্য নয়।

বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে ডয়চে ভেলের সঙ্গেও কথা বলেন বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার পদত্যাগ প্রসঙ্গে একটি পত্রিকায় রাষ্ট্রপতির বক্তব্য নিয়ে যে বিতর্ক হয়েছে তা একটি সেটেলড ম্যাটার। বঙ্গভবন থেকে বিবৃতি দিয়েও তা বলা হয়েছে। তারপর এটা নিয়ে আর বিতর্ক থাকে না। সুপ্রিম কোর্টের রেফারেন্সে তার পদত্যাগের কথা বলা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে বলেছেন।’

‘আমরা মনে করি, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সাংবাবিধনিক শূন্যতা ও রাষ্ট্রীয় সংকট তৈরি হলে তৃতীয় পক্ষ বা অন্য কোনো পক্ষের দুরভিসন্ধি কাজ করবে কিনা। সেইরকম রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক সংকটের মুখোমুখি আমরা হতে চাই না। আমরা চাই গণতন্ত্রে উত্তরণের পথে অন্য কোনো কিছু যেন বাধা না হয়।

আর ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আর সব অপকর্ম বাদ দিলেও ছাত্রলীগ জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র আক্রমণ করেছে, ভারি অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করেছে। আর আওয়ামী লীগ শাসনামলে ছাত্রলীগ ছিল একটা আতঙ্কের নাম। ছাত্র-জনতার দাবি ছিল তাদের নিষিদ্ধ করার। সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার সঙ্গে আমরা একমত।’

আওয়ামী লীগ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের গণহত্যার বিচার শুরু হয়েছে। আইনেও কিছু সংশোধন আসবে। সেখানে দলেরও বিচার হবে। দল নিষিদ্ধেরও বিষয় থাকবে কিনা সেটা বিচার শেষ হলে দেখা যাবে।’