লালমনিরহাটে আগাম জাতের ধান কাটছে কৃষক, মঙ্গা জয় করতে পারবে কি এবার | Daily AjKaler Kontho

লালমনিরহাটে আগাম জাতের ধান কাটছে কৃষক, মঙ্গা জয় করতে পারবে কি এবার


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২০, ২০২৪, ৩:১৯ অপরাহ্ন
লালমনিরহাটে আগাম জাতের ধান কাটছে কৃষক, মঙ্গা জয় করতে পারবে কি এবার

মোঃ জাহেদুল ইসলাম রতন, লালমনিরহাট : প্রতিটি গ্রামে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে যখন নিম্ন আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। ঠিক তখনই আগাম ধান কৃষকের মুখে মঙ্গা জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে কি? বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর লালমনিরহাটে কৃষকের ফসলের মাঠে ভেসে উঠছে ক্ষতচিহ্ন। ফলে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাজারো কৃষক।

জেলার আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের কালমাটি,বাহাদুরপাড়া, হরিণ চড়া, গরিবুল্লাপাড়া, সদর উপজেলার রাজপুর, খুনিয়াগাছ, তাজপুর, হাতীবান্ধা উপজেলার সিংগীমারী, সিন্দুনা ডাউয়াবাড়ি পাটিকাপাড়া, গড্ডিমারী,এবং পাটগ্রাম উপজেলা দহগ্রামের কিছু উচু জমির আগাম জাতের আমন ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। লালমনিরহাটের কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, সদরসহ আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার ১৬ জাতের ধানের চাষাবাদ হয়েছে। ব্রি ধান- ৩৩,৩৯,৭১,৭২,৯০ ও ৯৫ ব্রি হাইব্রিট ধান-৪ ও ৬ বিনা ধান-৭,১১,১৬,১৭ ও ২২ চায়না, পারিজ ধানীগােন্ড, টিয়া, ময়ানা,ইস্পাহানি-২, হিরা-৫, এসিআই-২, অ্যারাইজ এজেড-৭০০৬ এবং অ্যারাইজ এইচএন ৯০১৯ সহ বিভিন্ন আগাম জাতের ধানের চাষ করেছেন কৃষকরা। বন্যায় জেলার পাঁচ উপজেলায় এক লাখ,আট হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তার মধ্যে ১২৭,৫ হেক্টর আবাদি ফসল নষ্ট হয়েছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পুরুষের পাশাপাশি নারী শ্রমিকরাও সমান তালে কাজ করছেন। কেউ ধান কাটছেন আবার কেউ ধান বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। কেউবা জমিতে ও বাড়ির উঠোনে ধান মাড়াই করছেন।

কৃষকরা জানান, পর,পর দুই বার বন্যায় আমাদের আবাদি জমি পানির নিচে ডুবে যায়। তাই এবার ধানের ভালো ফলন পাওয়া যাবেনা।

সদর উপজেলার কুলাঘাট, ইউনিয়নের কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন , গত দুই, তিন বছর এক বিঘা জমির ধান কাটা ও মাড়াই করতে এক থেকে দেড় হাজার টাকা লেগেছে। এবার প্রায় তিন গুণ বেশি মজুরি দিতে হচ্ছে তবুও শ্রমিক সংকট। বর্তমানে ধানের দাম তুলনামূলক ভালো। অপরদিকে মজুরি বেশি থাকায় কৃষি শ্রমিকরা রয়েছেন চাঙা। ধান কাটা ও মাড়াই করতে কৃষি শ্রমিক পাওয়াই দুষ্কর হয়ে পড়েছে। দিন হাজিরায় ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাইখুল আরিফিন বলেন, চলতি মৌসুমে এ জেলার পাঁচটি উপজেলায় আগাম ধানের চাষ হচ্ছে।

এসব জমির ধান কেটে আবারাে ধান রােপণ করা যায় অথবা অন্য কোন ফসল ফলানো যায়। তাই ইতিমধ্যে এই জাতের ধানের রোপণ বেশ জনপ্রিয়াতা পেয়ােছে।