কেন্দুয়ায় এক যুবকের সাহসীকতায় ধরা পড়েছে অস্ত্রধারী চোর-ডাকাত | Daily AjKaler Kontho

কেন্দুয়ায় এক যুবকের সাহসীকতায় ধরা পড়েছে অস্ত্রধারী চোর-ডাকাত


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৪, ১:১৩ অপরাহ্ন
কেন্দুয়ায় এক যুবকের সাহসীকতায় ধরা পড়েছে অস্ত্রধারী চোর-ডাকাত

সুশীল আচার্য্য, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধিঃ- নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এক যুবকের সাহসীকতায় ৬ দিনে ধরা পড়েছে ১জন ডাকাত ও ৩জন অটোরিকশা চোর। ওই সাহসী যুবকের নাম হলো রাবেল মিয়া (৩০)। তিনি উপজেলার পাইকুড়া ইউপির মজলিশপুর ভ্রাম্যণঘাতি গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে। রাবেল একজন
অটোচালক।

তাঁর বাবা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তাঁর এই দুঃসাহসিক কাজের জন্য সর্বমহলে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। সরকারের পটপরিবর্তনের পর এলাকায় চুরিচামারি বেড়ে যাওয়ায় সে নিজ থেকেই রাত জেগে অবস্থান নিতেন এলাকায়। গত ২৮ আগস্ট বাড়ি পাশেই এক অটোরিকশা চোরকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। ৩০ আগস্ট রাতে মজলিশপুর গ্রামে কোয়াব আলী আকন্দের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত হয়।

ডাকাতরা ডাকাতি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় এক ডাকাতকে জাবড়ে ধরে সে। এসময় ডাকাতের সাথে তুমুল ধস্তাধস্তি হয়। ডাকাতরা তাকে আঘাত করলেও ছাড়েননি তিনি। ওই ডাকাতের নাম খোরশেদ আলম বাদশা (৩৫)। ওই বাদশা ডাকাত ১০ মামলার আসামী। পরদিন সকালে ডাকাত বাদশাকে
পুলিশের হাতে তুলে দেয় গ্রামবাসী।

দু’টি ঘটনার পর গতরাতে (রোববার) তার নিজের বাড়িতে চোরের দল হানা দেয়। তাঁর অটোরিকশা গ্যারেজের তালা ভাংতেই টের পেয়ে যায় রাবেল মিয়া। সে অসুস্থ থাকায় তার ছোট ভাই রবিনকে সঙ্গে নিয়ে চোরের দলকে ধাওয়া দেয়। পরে দুই চোরকে ধরতে সক্ষম হয় সে।

সাহসিক যুবক রাবেল মিয়া জানান,সরকার পরিবর্তনের পরপরই এলাকায় চোরের উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় আমি রাতে তেমন একটা ঘুমাই না। গত ২৮ আগস্ট রাতে এক অটোরিকশা চোরকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি । ৩০ আগস্ট রাতে মজলিশপুর গ্রামে কোয়াব আলী আকন্দের বাড়িতে দুর্দর্ষ ডাকাতি সংঘটিত হয়। ডাকাতরা ডাকাতি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় এক ডাকাতকে জাবড়ে ধরি।

এসময় ডাকাতরা তাকে মারপিট করলেও বাদশা নামে ডাকাতকে ছাড়েননি তিনি। পরদিন সকালে ওই ডাকাতকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরইমধ্যে রোববার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে তার অটোরিকশাটি চুরি করতে একদল চোর তার গ্যারেজের তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে।

বিষয়টি টের পেয়ে সে তার ছোট ভাই রবিনকে নিয়ে চোরের দলকে ধাওয়া দিয়ে দুই চোরকে ধরতে সক্ষম হয়। চোর-ডাকাত ধরতে গিয়ে মারাত্মক ভাবে হয়েছেন রাবেল । তার পেট-বুকের সাইডে ও দুই পায়ে রক্তাক্ত জখম হয়েছে। তাঁর আয়-রোজগার এখন বন্ধ। অর্থ্যাভাবে ঠিকমত চিকিৎসা করতে পারছেন তিনি। তিনি আরো বলেন, চোর-ডাকাত ধরতে গিয়ে নিজেকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন রাবেল।

স্থানীয়রা জানান,রাবেল একজন সাহসিক যুবক। সে তাঁর জীবন বাজি রেখে চোর-ডাকাত ধরেছে। এই কঠিন কাজটির জন্য তাকে যথাযথ মূল্যায়ন ও চিকিৎসা ব্যবস্থা করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

রাবেলের সাহসিকতার এব্যাপারে কেন্দুয়া থানার ওসি মিজানুর রহমান আকন্দ বলেন, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ডাকাতির একাধিক মামলা রয়েছে। ওই ব্যক্তিসহ ৫/৬ জনের আসামী করে ডাকাতি মামলা রুজু হয়েছে।

এই সাহসিকতার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। সে যদি নিরাপত্তা হীনতায় ভোগে আর আমাদেরকে জানায় তাহলে তাঁর নিরাপত্তা বিষয়টি দেখা হবে বলেও জানান তিনি।