সাতক্ষীরা পাসপোর্ট অফিসে উপচে পড়া ভিড় | Daily AjKaler Kontho

সাতক্ষীরা পাসপোর্ট অফিসে উপচে পড়া ভিড়


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২১, ২০২৪, ৩:৫৩ অপরাহ্ন
সাতক্ষীরা পাসপোর্ট অফিসে উপচে পড়া ভিড়

মিলন বিশ্বাস(সাতক্ষীরা প্রতিনিধি) : সাতক্ষীরা পাসপোর্ট অফিসের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি মানুষ পাসপোর্ট করতে এসেছেন বিগত কয়েকদিনে। প্রতিদিন প্রায় ১ হাজারের অধিক মানুষ আসছেন পাসপোর্ট করতে। যেখানে সাতক্ষীরা পাসপোর্ট অফিসের ৫টা বাই স্টেশনের ধারণ ক্ষমতা প্রতিদিন ৬০ জন করে মোট ৩০০ জনের। আর যদি রাত পর্যন্ত কাজ করা হয় তাহলে ৪০০ থেকে ৫০০জন মানুষের সেবা প্রদান করা সম্ভব।এরপর মেশিনে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয় (হ্যাং হয়ে যায়)। ধারণ ক্ষমতার বাইরে অধিক সংখ্যক গ্রাহক পাসপোর্ট করতে আসায় হিমসিম খাচ্ছে পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ।

স্বাভাবিক সময়ের দ্বিগুন তিনগুন আবেদনকারী পাসপোর্টের জন্য সকাল থেকে ভিড় করতে শুরু করেন। নতুন পাসপোর্ট কিংবা নবায়নে নতুন করে ডাটা এন্ট্রি করা হচ্ছে। ই-পাসপোর্টের জন্য চোখের আইরিশসহ ছবি তোলা হচ্ছে নতুন করে। এতে করে নতুন করে ছবি তোলা, আইরিশ নেয়া এবং স্বাক্ষর করার কাজ করতে হচ্ছে অপারেটরদের। প্রতিটি কাজে গড়ে পাঁচ সাত মিনিট সময় লাগছে। এর মধ্যে সার্ভার ডাউনসহ নানা ধরণের প্রযুক্তিগত বিড়ম্বনাও বড় ধরণের সংকট তৈরি করছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন ভোরবেলা থেকে লাইনে দাড়িয়ে আছেন প্রায় ১ হাজারের অধিক পাসপোর্ট করতে আসা গ্রাহক। কাঁক ডাকা ভোর থেকেই এসব গ্রাহকদের লম্বা লাইন শুরু হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইনও লম্বা হতে থাকে। প্রচন্ড ভীড়ে একটা সময়ে অফিসের বারান্দা থেকে রাস্তায় লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয় গ্রাহকদের।

পাসপোর্ট করতে আসা গ্রাহক সদ্বীপ বলেন, সামনে পূজা আর দেশের এই অবস্থায় পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট করতে এসেছি। কিন্তু পাসপোর্ট করতে পারবো কিনা বলতে পারছি না। লাইন শেষ হওয়ার অপেক্ষায় আছি।

দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন অনুপা রাণী। তিনি বলেন, গতকাল একবার এসে ফিরে গিয়েছি। আজও এসে দেখি দীর্ঘ লাইন। লাইন শেষ করে জমা দিতে পারব কিনা জানিনা। বাচ্চা কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি কান্নাকাটি করছে তবুও দাঁড়িয়ে আছি কিছু করার নেই।

সাতক্ষীরা শ্যামনগর থেকে আসা প্রণয় জানান, সকালে এসে লাইন ধরেছেন। তার আগে আরো অনেকেই লাইন ধরেন। ভোর থেকে মানুষ লাইনে দাঁড়ায় বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুপুর গড়িয়ে গেছে। এখনো আবেদন জমা দিতে পারিনি। কখন পারবো কে জানে! শুধু প্রণয় নন, এই ধরণের শত শত মানুষই প্রতিদিন সকাল থেকে লাইনে ধরে পাসপোর্টের আবেদন জমা দেন।

তবে ভোগান্তি কমাতে দূর-দূরান্ত থেকে পাসপোর্ট করতে আসা গ্রাহকদের সেবা দিতে খোদ সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান নিজে খোঁজ খবর নেন। এসময় অসুস্থ, বয়স্ক নারী-পুরুষ ও শিশুদের তিনি অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দেন দায়িত্বে থাকা সবাইকে।

সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান বলেন, সাতক্ষীরা পাসপোর্ট অফিসে প্রতিদিন ৫টা বাই স্টেশনের মাধ্যমে ৩০০জনকে সেবা প্রদান করা যায়। আর যদি রাত পর্যন্ত কাজ করা হয় তাহলে ৪০০ থেকে ৫০০ মানুষের সেবা দেওয়া সম্ভব। কিন্তু বিগত কয়েকদিনে প্রতিদিন পাসপোর্ট করতে আসা গ্রাহকের সংখ্যা ১ হাজারের অধিক। তাতে আবার জনবল সঙ্কট থাকায় একজন কর্মকর্তাকে দুই তিনজনের কাজ করতে হয়। তারপরও আমরা সাধ্যমত সেবা দিয়ে যাচ্ছি। যাতে কেউ পাসপোর্ট করতে এসে ভোগান্তির স্বীকার না হয়। সহ: পরিচালক ও উপ-সহ: পরিচালক সহ ৭জন লোকবল কম নিয়ে আমরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে পাসপোর্ট করতে আসা মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছি।

এসময় তিনি আরো বলেন, কোন কর্মকর্তা কর্মচারী যাতে অনৈতিক সুবিধা না নিতে পারে তার জন্য পুরো পাসপোর্ট অফিসের সিসি ক্যামেরা সার্বোক্ষণিক সচল রেখেছি। গ্রাহকদের কষ্ট কমাতে বাড়ীতে বসে আমার সরকারী Whatsapp নাম্বারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সেবা দিয়ে থাকি। এছাড়া আবেদন কারীদের ভোগান্তি কমাতে ই কিউ (ইলেকট্রনিক কিউ) টোকেন সিলিপ দেওয়া হয়ে থাকে। কোন সেবা প্রত্যাশী যাতে হয়রানির স্বীকার না হয় তার সর্বোচ্চ খেয়াল রাখি। পাসপোর্ট অফিসকে আমি সর্বোচ্চ সেবার মানদন্ডে নিয়ে যেতে চাই। যে কোন সেবা প্রত্যাশী আমার রুমে এসে সেবা নিতে পারবেন। সেজন্য তিনি সাংবাদিকসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এদিকে, সাতক্ষীরা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পদ রয়েছে ১৮টি। যার মধ্যে শুন্য রয়েছে ৭টি পদ। মাত্র ১১জন জনবল দিয়ে ৫টি বাই স্টেশনের মাধ্যমে গ্রাহককে সেবা দিচ্ছেন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। জনবলের চরম সঙ্কট নিয়েও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪২ কোটি ৬০ লাখ ৭৬ হাজার রাজস্ব আদায় করেছে সাতক্ষীরা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস।