বাউফলে রিমেলের তান্ডবে ক্ষয়ক্ষতি ২শ কোটি টাকা | Daily AjKaler Kontho

বাউফলে রিমেলের তান্ডবে ক্ষয়ক্ষতি ২শ কোটি টাকা


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : মে ২৮, ২০২৪, ৬:১৮ অপরাহ্ন
বাউফলে রিমেলের তান্ডবে ক্ষয়ক্ষতি ২শ কোটি টাকা

বাউফল প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর বাউফলে ঘূর্ণিঝড় রিমেলের তান্ডবে মৎস্য, কৃষি, সড়ক, বিদ্যুৎ, বনজ ও গ্রামীণ অবকাঠামোগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বেসরকারী হিসেব অনুযায়ি ক্ষতির পরিমান প্রায় ২শ কোটি টাকা ।

উপজেলা সিনিয়ার মৎস্য কর্মকর্তা মাহাবুব আলম তালুকদার জানান, রিমেলের প্রভাবে উপজেলা ৪ হাজার পুকুর, ৫০টি মাছের ঘের প্লাবিত হয়েছে।৭০ লাখ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা পানিতে ভেসে গেছে। অবকাঠামোসহ মোট ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।নাজিরপুর ইউনিয়নের তাতেরকাঠী মাছের ঘের মালিক বাপি তালুকদার বলেন আমার তিনটি মাছের ঘের থেকে কমপক্ষে ছয় লক্ষ টাকার মাছ জোয়ারের পানিতে ভাসিয়ে নিয়ে গেচে। এ ছাড়া ছালাম তালুকদার, বাবু হাওলাদারের মাছের ঘের ডুবে গিয়ে মাছ বের হয়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাস জানান, ২ হেক্টর আউশ বীজতলা ২.৫ হেক্টর তিল, কাচা মরিচ ৩ হেক্টর, সাকসবজি ৮০ হেক্টর,পান ২ হেক্টর, পেঁপে ২ হেক্টর, কলা ৩ হেক্টর ও ৩ হেক্টর জমির আমসহ মোট ৪ কোটি ২৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা বন কর্মকর্তা মোঃ বদিউজ্জামান খান জানান, একটি ম্যানগ্রাপ, নার্সারিসহ ৬লাখ ১৩ হাজার৩শ চারা, রাস্তায় বাগানের ৮১ হাজার চারা ও ৪১ হাজার নার্সারি চারাসহ মোট ৪৪লাখ ৪৭ হাজার ৮শ ৬৪ টাকা ক্ষতি হয়েছে । এছাড়াও ১৫ ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ৮-১০ হাজার ব্যক্তি মালিকানাধিন বিভিন্ন প্রজাতির গাছগাছালি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বাউফল জোনাল অফিসের ডিজিএম মজিবুর রহমান জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তাদের ১৫টি খুটি ভেঙ্গে গেছে এবং ২শ পয়েন্টে তার ছিড়ে গেছে। এ ছাড়াও ২শর বেশি ইনসোলেটর বিনষ্ট হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রাজিব বিশ্বাস জানান, উপজেলায় ১৮ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আধাপাকা ও টিনসেট ভবন সম্পূর্ণ বিধস্ত হয়েছে। আংশিক বিধস্ত হয়েছে ১হাজার১শ৩৪টি ভবন। গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষনাবেক্ষনের আওতায় ধুলিয়া, চন্দ্রদ্বিপ ও নাজিরপুর ইউনিয়নে ৮কিলোমিটার কাঁচা সড়কসহ মোট ৫কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

চন্দ্রদ্বি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলকাস মোল্লা জানান, তেঁতুলিয়ার মধ্যবর্তী তার ইউনিয়নের ১৪ কিলোমিটার বেড়ি বাধের খানকা বাজার থেকে দক্ষিনে ছালাম হাওলাদার বাড়ি পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার,দিয়ারা কচুয়া খেয়া ঘাট থেকে উত্তরে ¯øুইজ গেট পর্যন্ত ১কিলোমিটার চর নিমদি খেয়াঘাট থেকে দক্ষিনে ৩কিলোমিটার বেড়ি বাধ সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়াও চরব্যারেট ফারুক খানের বাড়ি থেকে পশ্চিমে সেকান্দার দর্জির বাড়ি পর্যন্ত একটি কাঁচা রাস্তা সম্পূর্ণ ভেঙ্গে গেছে।

বাউফল প্রকৌশলী মানিক হোসেন জানান, উপজেলায় মোট পাকা ও কাঁচা মিলিয়ে ১শ ৬৬ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সড়কগুলো পূননির্মান ও মেরামত করতে মোট ১শ ৭কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় রিমেলে তেঁতুািলয়া নদীর তীরবর্তী কালাইয়া টু মমিনপুর জিসিআর সড়ক কাম বেড়ি বাধটি ব্যাপক ভাবে ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছে। এসড়কের ৮টি পয়েন্টে ভেঙ্গে গেছে।

এ ছাড়াও রিমেলের প্রভাবে চন্দ্রদ্বিপ, কালাইয়া, নাজিরপুর, কেশবপুর, ধুলিয়া, কাছিপাড়া, আদাবাড়িয়া, দাশপাড়া, বাউফল পৌর এলাকায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ এখনো পানিবন্দি হয়ে আছে। অধিকাংশ পানিবন্দি মানুষের কাছে এখনো পর্যাপ্ত পরিমান ত্রান পৌঁছায়নি। বেড়ি বাধের বাইরে এলাকাগুলোর পানি নেমে গেলে ভিতরের এলাকগুলোর পানি বেড় হতে না পারায় মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ বশির গাজী বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার তি হাজার পরিবারের মধ্যে ইতিমধ্যে সরকারী ভাবে সুকনো খাবার, ১০ কেজি করে চাল, ডাল,তৈল,আলু, পিঁয়াজসহ ত্রান সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়েছে। সরকারের কাছে আরও চাহিদা দেয়া হয়েছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান মোসারেফ হোসেন খান বলেন, ঝড়েরর দিন সাইক্লোন সেল্টারে আশ্রয়কৃত মানুষের মাঝে স্থানীয় এমপি আসম ফিরোজের নির্দেশে সুকনো খাবার পৌঁছে দেয়া হয়।জাতীয় সংসদের সাবেক চীফ হুইপ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি আসম ফিরোজ এমপি বলেন,

বাউফল উপজেলা সাগর উপকূলীয় হওয়ায় এখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকার অধিক ক্ষতিগ্রস্থ উপজেলায় এলাকায় যে ধরণের সাহায্যে প্রদান করবেন আশা করি আমার উপজেলায়ও একই ধরণের সাহায্য প্রদান করবেন। যাদের ঘর বিধস্ত হয়েছে তাদের মাঝে টিন বিতরণের জন্য তালিকা তৈরির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আমাদের কাছে প্রায় ৯শ ব্যান্ডেল ডেউটিন মওজুদ রয়েছে। সেখান থেকে অধিক ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ডেউটিন বিতরণ করা হবে।