বিরল রোগে আক্রান্ত ভাই-বোন প্রায় পঙ্গু, অর্থাভাবে চিকিৎসা বন্ধ | Daily AjKaler Kontho

বিরল রোগে আক্রান্ত ভাই-বোন প্রায় পঙ্গু, অর্থাভাবে চিকিৎসা বন্ধ


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১৬, ২০২৪, ৩:৩৩ অপরাহ্ন
বিরল রোগে আক্রান্ত ভাই-বোন প্রায় পঙ্গু, অর্থাভাবে চিকিৎসা বন্ধ

আজকালের কন্ঠ ডেস্ক : পিতা মারা গেছেন ৭/৮ বছর আগে। তখন থেকেই বড় ভাই হাত-পা অবশ হয়ে পঙ্গু প্রায়। অন্যের সাহায্য ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না। মায়েরও বয়স হয়েছে। বসত ভিটা ছাড়া জমি জমা বলতে কিছুই নাই। এ অবস্থায় সংসারের হাল ধরতে কষ্ট করে বিএ পাশ করেন সাবানা খাতুন। শিক্ষকতার চাকরি নেন একটি বে-সরকারী সংস্থা কতৃক পরিচালিত ঝড়েপড়া শিক্ষার্থীদের স্কুলে। বাড়ির পাশেই স্কুল। শিশুদের শিক্ষাদানের পাশাপাশি সংসারের কাজও করতেন তিনি। কিন্তু বছর দুয়েক আগে বড় ভাইয়ের মত তার হাত-পা অবশ হতে শুরু করে।

এরপর আস্তে আস্তে তা বাড়তে থাকে। চিকিৎসা করিয়েছেন বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। বর্তমানে দুই হাত-পা অবশ হয়ে তিনিও শয্যাসায়ী। টাকার অভাবে চিকিৎসাও বন্ধ। এ অবস্থায় কঠিন দুর্বিসহ অবস্থার মধ্য দিয়ে দিন কাটছে পরিবারটির।

সাবানার বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নের চন্দরিয়া তালতলা গ্রামে। পিতার নাম আমির উদ্দীন। টিনের ছাপড়া মাটির ঘড়ে মাতা রহিমা বেওয়া আর বড় ভাই আব্দুর রহিম লিটন সহ বসবাস করেন। কয়েক বছর আগে ঝড়ে ঘড়ের পশ্চিম পাশে^র একটি দেওয়ালের কিছু অংশ ভেঙ্গে যায়। মেরামত করতে পারেননি। পুরাতন টিন দিয়ে কোন মতে বেড়া দিয়ে রেখেছেন।

সাবানার মাতা রহিমা বেওয়া জানান, অন্যের জমি চাষ এবং মাঝে মধ্যে অন্যের বাড়িতে কামলা খেটেই তাদের সংসার চলতো। ৭/৮ বছর আগে স্বামী মারা গেছেন। ছোট বেলা থেকেই বড় ছেলে লিটনের হাত পায়ে সমস্যা।

ঠিকমত হাটতে পারতো না । বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করানো হয়। কিন্তু ভালো হয়নি। তার বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে সে অচল হয়ে পড়ে আছে। হাটতে পারে না। ঠিকমত কথাও বলতে পারেনা। অন্যের সাহায্য সহযোগীতা ও প্রতিবেশির বাড়িতে কাজ কর্ম করে অনেক কষ্ট করে সংসার চালিয়েছেন। এ অবস্থায় মেয়ে সাবানা সংসারের হাল ধরতে কষ্ট করে চন্দরিয়া ডিগ্রী কলেজ থেকে বিএ পাস করে একটি সংস্থার স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি নেয়। স্বপ্ন দেখছিলাম কিছুটা শুখের। কিন্তু দুই বছর আগে মেয়ে সাবানার হাত-পায়েও সমস্যা দেখা দেয়। আস্তে আস্তে তা খারাপের দিকে যায়। সাধ্যমত চিকিৎসা করিয়েছি। লাভ হয়নি। বর্তমানে অবশ হয়ে বাড়িতে পড়ে আছে। চাকরিও নাই। ঘড়ে খাবারও নেই। টাকার অভাবে মেয়ে এবং ছেলের চিকিৎসা বন্ধ আছে।

জাবরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি খোঁজ খবর নিবেন এবং তার পক্ষ থেকে যা যা করা দরকার করবেন। এ প্রসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পক্্েরর আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ আব্দুর রহমান সোহান বলেন, এটি নিউরোলোজিকাল সমস্যা। ঠিক করে বলা যাচ্ছে না কি হতে পারে। উন্নত চিকিৎসা করানো গেলে ভাল হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

সাবানা খাতুনের বিকাশ নম্বর-০১৭১৯৪৯০৪৪২, সোনালী ব্যাংক লিঃ,জাবরহাট, ঠাকুরগাঁও শাখা -এর হিসাব নম্বর=১৯২০৮০১০০৯১৯৪, সাবানা খাতুন।