
মোঃ জয়নাল আবেদীন ,বান্দরবান : আজ পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের ২৬ তম বার্ষিকী। এই উপলক্ষ্যে আলীকদম সেনা জোন (৩১ বীর) এর আয়োজনে, আলীকদম উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় উদযাপিত হয়েছে দিনটি।
আলীকদম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব, আবুল কালাম এর সভাপতিত্বে, সাংবাদিক হাসান মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, আলীকদম সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেঃকর্ণেল শওকাতুল মোনায়েম পিএসসি।
১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘ দুই দশকের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংঘাতের অবসান ঘটে। সশস্ত্র সংগ্রাম পরিহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন জনসংহতি সমিতির সদস্যরা।
চুক্তি স্বাক্ষরের ২৬ বছর অতিবাহিত হলেও পাহাড়ে এখনো শান্তি ফিরে আসেনি। পাহাড়ে বিবদমান চারটি আঞ্চলিক গ্রুপের সংঘাত, কখনো পাহাড়ি-বাঙালি দাঙ্গায় এখনো সবুজ পাহাড় রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে। চুক্তির পর দীর্ঘদিনের অবরুদ্ধ পার্বত্যাঞ্চল বিশ্ববাসীর কাছে মুক্ত হয়। শান্তির বার্তা নিয়ে এই চুক্তি বাস্তবায়ন করা হয়। প্রাথমিকভাবে শান্তিবাহিনীর সদস্যরা অস্ত্র জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। সরকারও তাদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে। সাময়িকভাবে পাহাড়ে রক্তের খেলা, অস্ত্রের ঝনঝনানি বন্ধ হয়।
কিন্তু বছর যেতে না যেতে প্রতিষ্ঠা হয় চুক্তিবিরোধী সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। এরপর শুরু পাহাড়ে দুই আঞ্চলিক দলের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। থেমে থেমে চলে দুই সংগঠনের হত্যা পাল্টা হত্যা। ২০০১ সালে তিন বিদেশি অপহরণের মাধ্যমে শুরু হয় পাহাড়ে অপহরণ বাণিজ্য। পরে ২০০৭ সালে জনসংহতি সমিতি থেকে বের হয়ে আরেক আঞ্চলিক সংগঠন জেএসএস (এমএন লারমা) সৃষ্টি হয়। এরপর বিভিন্ন সময় তিন পক্ষের কর্মী, সমর্থক হত্যার মাধ্যমে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চলে।
চুক্তি পরবর্তী এই সুদীর্ঘ সময়ে তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন স্থানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন সেনাবাহিনীর অনেক পদস্থ কর্মকর্তা সহ অসংখ্য সৈনিক। প্রাণ হারিয়েছে মতবিরোধী উগ্রপন্থীদের অনেকে। তবে সকল কিছুর শেষ ভালোতে সকলের প্রত্যাশা অচিরেই চুক্তিতে উল্লেখিত শর্ত সমূহের পূর্ণ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে এই পার্বত্যাঞ্চলে স্থায়ীভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে। পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২৬তম বৎসরে এটাই সবার প্রত্যাশা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, লামা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, মোস্তফা জামাল। আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাবের মোঃ সোয়াইব। আলীকদম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, জামাল উদ্দিন। লামা পৌর মেয়র, জহিরুল ইসলাম। আলীকদম উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন বিএসসি। আলীকদম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিঃ অংশেথোয়াই মার্মা। আলীকদম সদর ইউপি চেয়ারম্যান, নাছির উদ্দিন বিএ। চৈক্ষ্যং ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন। নয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান এম. কফিল উদ্দিন। কুরুকপাতা ইউপি চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো। মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান-সহ হেডম্যান ও পাড়া কারবারিরা উপস্থিত ছিলেন।আলীকদম সেনা জোনের আয়োজনে পার্বত্য শান্তি চুক্তির দিবস উদযাপন।
আপনার মতামত লিখুন :