লক্ষ্মীপুরে ম্যাজিষ্ট্রেটের নির্দেশে কাঠগড়ায় আসামিকে থাপ্পড়! | Daily AjKaler Kontho

লক্ষ্মীপুরে ম্যাজিষ্ট্রেটের নির্দেশে কাঠগড়ায় আসামিকে থাপ্পড়!


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১৫, ২০২৩, ৭:০৩ অপরাহ্ন
লক্ষ্মীপুরে ম্যাজিষ্ট্রেটের নির্দেশে কাঠগড়ায় আসামিকে থাপ্পড়!

আজকালের কন্ঠ ডেস্ক : লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক নুসরাত জামানের নির্দেশে এজলাসের ভেতর কাঠগড়ায় আবদুল্লাহ আল মামুন নামে এক আসামিকে থাপ্পড় দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে আইনজীবীরা নুসরাত জামানের আদালত বর্জন করেছেন। এ সময় ওই বিচারককে লক্ষ্মীপুর থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে আইনজীবীরা।

বুধবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক সৈয়দ শফিকুল ইসলাম মুকুল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ম্যাজিষ্ট্রেট নুসরাত জামান মামলার শুনানির পর মামুন নামে এক আসামিকে এজলাসে ডেকে নেন। পরে পুলিশের এক কনস্টেবলকে ওই আসামিকে দুটি থাপ্পড় দিতে বলেন। ম্যাজিষ্ট্রেটের নির্দেশে কনস্টেবল আসামিকে থাপ্পড় দেন। মামুনও পুলিশের একজন সদস্য। এই ঘটনায় একটি প্রতিবেদন জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে এজলাসের ভেতর থাপ্পড় দওয়ার ঘটনাটি নিয়ে মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) আইনগত প্রতিকার পেতে ভুক্তভোগী আবদুল্লা আল মামুন চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছেও অভিযোগটি দিয়েছেন।

অভিযোগে আবদুল্লাহ আল মামুন উল্লেখ করেন, স্ত্রী সুমাইয়া সুলতানা বাদী হয়ে মামুনের বিরুদ্ধে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট লক্ষ্মীপুর সদর আদালতে একটি মামলা (সিআর ৭৫/২০২৩) দায়ের করেন। মামলাটি সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ৩নং আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মঙ্গলবার সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য্য ছিল। বাদীপক্ষ ২ জন সাক্ষী আদালতে উপস্থাপন করেন। সাক্ষীর জেরা শেষে মামুন এজলাস থেকে বের হয়ে বারান্দায় যায়। এ সময় তাকে বাদী ও তার মা পারুল বেগম মারধর করে। বিষয়টি তিনি আদালতের বিচারক নুসরাত জামানকে জানান। কিন্তু বিচারক একতরফাভাবে কথা না শুনে তাকে এজলাসের কাঠগড়ায় ডেকে নেয়। পরে বিচারক পুলিশ কনস্টেবল কবিরকে নির্দেশ দেয় তাকে দুটি চড় দেয়ার জন্য। বিচারকের নির্দেশে বিচারপ্রার্থী জনগণের সামনেই কনস্টেবল কবির তাকে দুটি চড় দেয়। এ সময় তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়।

জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মাহমুদ বলেন, ঘটনাটি নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে সভা করেছি। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারকের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সিদ্ধান্ত নিলে জানানো হবে।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এমরান হোসেন ফয়সাল জানান, লিখিত অভিযোগের ঘটনাটি আমার জানা নেই। আমি বাহিরে আছি। এ বিষয়ে এখন বিস্তারিত বলতে পারবো না।

লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের সরকারি কৌশুলী অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন বলেন, এজলাসে এধরণের কাজ বিচারক করতে পারেন না। এটি খুবই ন্যক্কারজনক।