স্পোর্টস ডেস্ক : আবারও পাকিস্তানের তরুণ ফাস্ট বোলার নাসিম শাহ পাকিস্তানের সম্মান রক্ষা করেছেন। অন্যদিকে আফগানিস্তান জিততে জিতলেও পারলো না।যখন মনে হচ্ছিল আফগানিস্তান ঐতিহাসিক জয় পেতে যাচ্ছিল তখন দুই বোলারের হাত ধরে পাকিস্তান রুদ্ধশ্বাস জয় পেয়েছে। প্রথম স্পীন বোলার সাদাব খান পরে ফাস্ট বোলার নাসিম শাহ পাকিস্তানের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
নখ কামড়ানো মুহূর্ত। রোমাঞ্চকর ম্যাচ ঝুলছে পেন্ডুলামের মতো। কখনো এগিয়ে যায় আফগানিস্তান। কখনো পাকিস্তান। কে জিতবে বলা যাচ্ছিল না শেষ পর্যন্ত।
নন স্ট্রাইক প্রান্তে ছিলেন শাদাব। স্ট্রাইক প্রান্তে নাসিম শাহ। ফারুকি খুব ভালোভাবেই জানতেন প্রথম বলেই প্রান্ত বদল করতে চাইবেন শাদাব। তাইতো বোলিং করতে এসে বল না ছুঁড়ে মানকাড করেন ফারুকি। উইকেট ভাঙার সময় ক্রিজের বাইরে ছিলেন ব্যাটসম্যান। কাজ হয়ে যায় আফগানিস্তানের। বিপজ্জনক শাদাব মানকাড আউট হয়ে ফেরেন ড্রেসিংরুমে।
শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটায় আফগানিস্তানের দেওয়া ৩০১ রানের টার্গেট ছুঁতে পাকিস্তানের শেষ ওভারে দরকার ছিল ১১ রান। হাতে কেবল ২ উইকেট। ক্রিজে ৪৮ রান করা শাদাব খান থাকায় ভরসা পাচ্ছিল পাকিস্তান। কিন্তু ফজল হক ফারুকির করা প্রথম বলে চরম নাটকীয়তা ছড়ায়।
পাকিস্তান তখন চরম বিপদে। ১ উইকেট রেখে ১১ রান তোলা ছিল কঠিন কাজ। কিন্তু হারিস রউফকে সঙ্গে নিয়ে নাসিম শাহ দলকে জিতিয়ে-ই মাঠ ছাড়েন। ফারুকির প্রথম বল লং অফ দিয়ে চার মারেন নাসিম। পরের বল ডট। তৃতীয় বল সিঙ্গেল নিয়ে প্রান্ত বদল করেন লেজের ব্যাটসম্যান। চতুর্থ বলে হারিস রউফ ডিপ মিড উইকেটে বল পাঠিয়ে নেন ৩ রান। শেষ ২ বলে পাকিস্তানের জয়ের জন্য দরকার ৩ রান।
পঞ্চম বলে সমীকরণ মিলিয়ে নেন নাসিম। তার ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় শর্ট থার্ড ম্যান অঞ্চল দিয়ে সীমানার বাইরে। ব্যাট-হেলমেট ছুঁড়ে ফেলে ভো দৌড়ে উদযাপনে মাতেন এ ব্যাটসম্যান। ১ বল হাতে রেখে পাকিস্তান ম্যাচ জিতে নেয় ১ উইকেটে। সেই সঙ্গে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে নিশ্চিত হয়ে গেল পাকিস্তানের।
তবে এই ম্যাচে সব পাওয়ার দাবীদার ছিল আফগানিস্তান। প্রথম ম্যাচে ৫৯ রানে গুটিয়ে যাওয়া দল কিভাবে ৩০০ রান পুঁজি করে তা ছিল চরম বিস্ময়কর। ইনিংসের শুরুতেই কাজের কাজ করে দেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান। দুজন ওপেনিং জুটিতে ৩৯.৫ ওভারে ২২৭ রান করেন।
সেঞ্চুরি পাওয়া গুরবাজ ১৫১ এবং ইব্রাহিম ৮০ রান করেন। দুজনের দারুণ এই জুটির পর রানের চাকায় লাগাম টানেন পাকিস্তানের বোলাররা। শেষ ১০ ওভারে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আফগানিস্তানকে তিনশর বেশি করতে দেননি আফ্রিদি, নাসিম, রউফরা।
আপনার মতামত লিখুন :