কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : কুয়াকাটার খাজুরা (৮ম শ্রেণি) সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সল্পতায় পাঠদানে বিঘ্ন ফলে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল থেকে বি ত হওয়ার শংকায় রয়েছে অভিভাবক ও ওই বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকবৃন্দ। বর্তমান সরকারের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে সারাদেশে শিক্ষা বিস্তার লাভে শিক্ষা ব্যবস্থাকে দ্বোরগোড়ায় পৌছাতে পরীক্ষামূলক জনগুরুত্বপূর্ন এলাকার অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ৮ম শ্রেণিতে উন্নিত করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় পর্যটন নগরী কুয়াকাটার অদূরে খাজুরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। অথচ বিদ্যালয়টিতে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হলেও শিক্ষক কাঠামো বাড়ান হয়নী। তবে সম্প্রতি পটুয়াখালী জেলায় ৪১৫জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে, এর মধ্যে কলাপাড়া উপজেলায় দেয়া হয়েছে ৬৭জন এর পরেও শিক্ষক স্বল্পতা রয়েইগেল। সরেজমিনে জানাযায়, ওই বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক সংখ্যা রয়েছে ডেপুটিশনের ১জনসহ ৪জন। যেখানে সঠিক পাঠদানে অন্তত প্রাথমিক পর্যায়ই ৮জন শিক্ষক প্রয়োজন, সেখানে ৮ম শ্রেণিতে উন্নিত করলেও ৪জন শিক্ষক দ্বারা বিদ্যালয়টি পরিচালিত হচ্ছে। ভালো পাঠদানে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষক দরকার ১০জন কিন্তু শিক্ষা অফিসারদের অব্যবস্থাপনা ও অবহেলায় ওই বিদ্যালয়টিতে পূর্বের ন্যায় ৩ থেকে ৪জন শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। নামে আছে কাজে নেই তারই প্রতিফলন ঘটছে এখানে।
আরও জানাযায়, কলাপাড়া উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের বানিকান্ত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থী রয়েছে ৩৫জন, সেখানে কর্মরত শিক্ষক রয়েছে ৪জন, বর্তমানে দেয়া হয়েছে আরও একজন। রহমতপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থী রয়েছে ১৩৫জন, সেখানে কর্মরত শিক্ষক রয়েছে ৮জন, বর্তমানে দেয়া হয়েছে একজন। সেরাজপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থী রয়েছে ২১১জন, সেখানে কর্মরত শিক্ষক রয়েছে ৪জন, বর্তমানে দেয়া হয়েছে ২জন।
দেখাযাচ্ছে কলাপাড়া উপজেলায় অনেকগুলো স্কুল রয়েছে যেখানে শিক্ষক সংখ্যা দশের অধিক। ওই সকল বিদ্যালয় ৬জন শিক্ষকদ্বারাও ভালোভাবে পাঠদান চালানো সম্ভব শুধু মানুুষিকতার অভাব। ৫ম শ্রেণির কোন স্কুলে শিক্ষক থাকবে দশের অধিক আর ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয় শিক্ষক থাকবে ৩থেকে ৪জন। এরকম বৈষম্য এটা মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর পরীক্ষামূলক উদ্যোগ জনগুরুত্বপূর্ন এলাকার কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ৮ম শ্রেণিতে উন্নিত করণ শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার একটি কৌশল মাত্র।
এ ব্যাপারে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ নজরুল ফকির বলেন, ২০১২সালে স্কুলটি ৮ম শ্রেণিতে উন্নিত হওয়ার পর থেকে তৎকালিন যারা সংশ্লিষ্ট ছিলেন তারা স্কুলের এমন করুন অবস্থার কথা শিক্ষা ডিপার্টমেন্ট এর বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোন ফল পায়নী। তিনি আরও বলেন, এ বিষয় উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে জেলা শিক্ষা অসিারের সাথে একাধীকবার যোগাযোগ করলেও উপজেলা শিক্ষা অফিসার শুধু দিচ্ছি দিব বলে অদ্য পর্যন্ত শুধু আশ্বাস দিয়েই আসছে। অথচ এমনও স্কুল রয়েছে যেখানে প্রাথমিক পর্যায় দশের অধিক শিক্ষক রয়েছে। তাহলে শিক্ষা নীতির এ অব্যবস্থাপনার কথা বলবো কোথায় ।
এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের দায়িত্বে থাকা (উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার) মোঃ আবুল বাশার বলেন, শিক্ষক সংকটের বিষয়টি অবগত আছি, তবে সম্প্রতি নিয়োগকৃতদের মধ্য থেকে ১জন দেয়া হয়েছে এবং ডেপুটিশনে আরও দুজন শিক্ষক দেয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে।
আজকালের কন্ঠ /মিজান /এমএম
আপনার মতামত লিখুন :