দয়া করে কেউ বিতর্কিত কথা তুলবেন না : রোজিনা | Daily AjKaler Kontho

দয়া করে কেউ বিতর্কিত কথা তুলবেন না : রোজিনা


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ৭, ২০২০, ১১:২০ পূর্বাহ্ন
দয়া করে কেউ বিতর্কিত কথা তুলবেন না : রোজিনা

বিনোদন ডেস্ক : ঢাকাই চলচ্চিত্রের ‘ড্রিমগার্ল’ খ্যাত চিত্রনায়িকা রোজিনা। আশি ও নব্বই দশকের পর্দা কাঁপানো অভিনেত্রীদের একজন তিনি। অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও চলচ্চিত্রে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি রোজিনা রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলায় মায়ের নামে একটি মসজিদ নির্মাণ করছেন।

কবে থেকে মায়ের নামে মসজিদ নির্মাণের ইচ্ছেটা?

অনেক বছর আগে থেকেই। আমি যেখানে মসজিদ নির্মাণ করছি, এটা কিন্তু আমার মায়ের দেশ। মানে আমার নানাবাড়ি। আমার দাদাবাড়ি কিন্তু রাজবাড়ীতে। আমার জন্ম নানাবাড়ি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে। বড় নাতি হিসেবে আমার নানা আমাকে দুই বিঘার মতো একটা জমি দিয়েছিল, তাও বহু বছর আগের কথা। মা বেঁচে থাকার সময় ওই জায়গায় ছোট্ট একটি বাড়িও করা হয়। অনেক বড় জায়গা। বাড়ি ছাড়াও সেখানে চাষাবাদ করা হতো। চলচ্চিত্রে আসার পর মনে ইচ্ছে জাগে, আল্লাহ যদি কোনোদিন সুযোগ দেন তবে আমি একটি মসজিদ নির্মাণ করব। মাকে হারানোর পর মনে বারবার নাড়া দিচ্ছিল কাজটি করার। এরপর আমার ওই জমির সমনের অংশ প্রায় ৬-৭ শতকের মধ্যে মসজিদটা নির্মাণ করার পরিকল্পনা করি। সম্পূর্ণ নিজের খরচেই ‘খাদিজা জামে মসজিদ’র কাজ শুরু করেছি। এটি হবে পৌরাণিক মসজিদের আদলে।

শুনলাম, চক্ষু হাসপাতাল নির্মাণ করার পরিকল্পনাও করছেন?

হ্যাঁ, একটা ভাবনা আছে। তবে এখনই না। শুরুতেই বলেছি, এটা আমার জন্মস্থান। এর প্রতি ভালোবাসাটাও অন্যরকম। এই মানুষের জন্য কিছু করতে চাই। চক্ষু হাসপাতাল নির্মাণের পেছনে অনেক টাকা লাগে। আমার জমি আছে। হাসপাতাল নির্মাণের মতো সেরকম অর্থ নেই। কেউ যদি এগিয়ে আসে বা নিজের পরিস্থিতি হয় তবে আমি এটা অবশ্যই নির্মাণ করব।

আপনার মসজিদ নির্মাণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখেছেন?

আসলে কে কি বলল তাতে আমার যায় আসে না। আমি আল্লাহর ঘর নির্মাণ করছি, ব্যাস এইটুকু। আমি অভিনয় করি বলেই তো এসব কথা। যেকোনো কাজ করার আগে নানা মানুষ নানা কথা বলবেই, এটাই স্বাভাবিক। এ নিয়ে পড়ে থাকলে কিছুই হবে না। অভিনয় করি, অসৎভাবে তো আর টাকা ইনকাম করি না। আর বলা যায়, আমি কিন্তু এখন অভিনয়ও করি না। ২০০৫ সালে সর্বশেষ অভিনয় করেছিলাম ‘রাক্ষুসী’ ছবিতে। এরপর মাঝে মধ্যে টিভির পর্দায় হাজির হয়েছি। তাও বিশেষ দিনের অনুষ্ঠানে। আর কোথাও কি আছে, অভিনয় শিল্পীরা আল্লাহর নাম বা ধর্মীয় কাজ করতে পারবে না? অভিনয়ের অনেক মানুষ আছেন যারা হজ করেছেন কয়েকবার, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও পড়েন। আমাদের রাজ্জাক ভাই শুটিংয়ের সময় আজান হলে সব কাজ বন্ধ করে নামাজ পড়তেন। অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন কয়েকবার হজ করেছেন এবং নামাজ পড়েন, শাবানা আপাও হজ করেছেন, নামাজ পড়েন। এখন কি তারা একেবারেই ক্যামেরার সামনে আসবে না? অসৎভাবে ইনকাম করে খাবে? আমি মুসলমান, নামাজ পড়ি, কর্মকেও সম্মান করি। একটা সময় আমিও চাইবো না ওই ধরনের ক্যাটাগরিতে অভিনয় করার। তখন হয়তো আমিও অভিনয় থেকে বিদায় নেবো।

আজকালের কন্ঠ /এমএম