কেন্দ্রীয় নেতাদের আমলনামার চুলচেরা বিশ্লেষণ | Daily AjKaler Kontho

কেন্দ্রীয় নেতাদের আমলনামার চুলচেরা বিশ্লেষণ


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১৮, ২০১৯, ১১:১৯ অপরাহ্ন
কেন্দ্রীয় নেতাদের আমলনামার চুলচেরা বিশ্লেষণ

আজকালের কন্ঠ ডেস্ক : আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় কাউন্সিল শুক্রবার। এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেবে তিন বছর মেয়াদি বর্তমান কমিটি। পরের দিন শনিবার গঠিত হবে দলটির নতুন নেতৃত্ব।
এর আগে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে দলটির কার্যনির্বাহী সংসদের বিদায়ী সভা। সন্ধ্যা ৬টায় দলটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বর্তমান কমিটির বিগত তিন বছরের সফলতা-ব্যর্থতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে দলের গঠনতন্ত্র সংশোধনীর খসড়া। অবহিত করা হবে কাউন্সিলের আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতির সর্বশেষ অবস্থা। অনুমোদন দেয়া হবে সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষের প্রতিবেদন। এছাড়া দল পরিচালনার ব্যাপারে আগামী নেতৃত্বের প্রতি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দিতে পারেন দলের সভাপতি। ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।
আরও জানা গেছে, বর্তমান কমিটির সব স্তরের নেতার আমলনামা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন দলের হাইকমান্ড। সংশ্লিষ্ট নেতাদের সফলতা ও ব্যর্থতার পাশাপাশি নিজ এলাকায় জনপ্রিয়তা, দলীয় কোন্দলে সম্পৃক্ততা, বলয়বেষ্টিত কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নেতাদের সার্বিক কর্মকাণ্ডের বিশ্লেষণের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে বর্তমান কমিটির কতজনের জায়গা হচ্ছে নতুন কমিটিতে।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, সম্মেলন হলে পুরনোদের অনেকেই বাদ পড়বেন এটা স্বাভাবিক। নতুনদের জায়গা দিতেই এটা করা হয়।
সবাই সফল তা বলব না, দায়িত্ব পালনে অনেকের সফলতা-ব্যর্থতা থাকতেই পারে। তবে এর মাপকাঠি করবেন একমাত্র দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সবার বিষয়ে পরিপূর্ণ ধারণা রাখেন। সবার আমলনামা তার কাছে আছে। তিনি যেটা ভালো মনে করবেন সেটিই করবেন।
সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বা অন্যান্য যে বিষয়গুলোতে কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদন নিতে বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। এছাড়াও সমসাময়িক অন্যান্য বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে।
আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, নিজ দায়িত্বে অবহেলা ও নীরবতার কারণে আসন্ন জাতীয় সম্মেলনে অনেকেই পদ হারাতে পারেন। দলকে শক্তিশালী ও ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে এ পরিবর্তন আনা হবে। অনেক প্রতিশ্রুতিশীল, বুদ্ধিদীপ্ত তরুণরা স্থান পেতে পারেন নতুন কমিটিতে।
বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট, সভাপতির নিজস্ব মূল্যায়নের ভিত্তিতেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ নেতাদের তালিকা তৈরি হবে। বিশেষ করে সম্পাদকীয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে যারা নিষ্ক্রিয় ছিলেন, বিগত তিন বছরে দৃশ্যমান কোনো পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি- এমন অনেক প্রভাবশালী নেতা আছেন বাদের তালিকায়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েকজন নেতার কর্মকাণ্ডের ওপর সন্তোষজনক মনোভাব রয়েছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের। নির্বাচনসহ বিভিন্ন সময়ে দলের ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে আলোচিত হন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম।
দফতরে ডিজিটাল সেবা, তৃণমূলের সমস্যা ও তা দ্রুত সমাধানের রীতি চালু করেন আওয়ামী লীগের উপদফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। জেলা-উপজেলা দফতরের সঙ্গে একটি সমন্বয় সেলও তৈরি করেছেন তিনি। গণমাধ্যমসহ নেতাকর্মীদের মোবাইল ফোনে এসএমএস বার্তাসেবা চালু করেন ব্যারিস্টার বিপ্লব। আর তাকে এ কাজে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ।
এদিকে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথিদের দাওয়াতপত্র পৌঁছে দেয়া, মঞ্চ ও সম্মেলনস্থল প্রস্তুতি এবং সাজসজ্জাসহ অন্যান্য কাজ শেষ হয়েছে।
এছাড়া ইতিমধ্যে গঠনতন্ত্র, ঘোষণাপত্র, সাংগঠনিক রিপোর্ট ও শোকপত্রের খড়সা প্রণয়ন করা হয়েছে। চার কোটি টাকা বাজেটের সম্মেলনে কাউন্সিলর, ডেলিগেটসহ ৫০ হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত থাকবেন।

আজকালের কন্ঠ/এম এম