পথচারীকে মাদক দিয়ে ফাঁসানো : ওসিসহ ৬ জনকে আদালতে তলব

নিউজটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : পথচারীর পকেটে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর ঘটনায় রাজধানীর পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছেন আদালত। আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের আদালতে হাজির হয়ে এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. শান্ত ইসলাম মল্লিক এই আদেশ দেন। এর আগে, মামলার নথি ও ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখেন আদালত।

পল্লবী থানার ওসি ছাড়া অন্যরা হলেন উপপরিদর্শক কামরুল ইসলাম, এএসআই মাহাবুব আলম, কনস্টেবল মো. কামরুজ্জামান, আনসার সদস্য ইসমাইল হোসেন ও তদন্ত কর্মকর্তা খালিদ হাসান তন্ময়। তাদের প্রত্যেককে আলাদা করে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

অন্যদিকে মাদক মামলার আসামি মো. খলিল রহমানের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই খালিদ হাসান তন্ময় গত ১১ সেপ্টেম্বর তাকে মাদক মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন। পূর্বশত্রুতার জেরে খলিল এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন দাবি করে তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেন মামলার আইও। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করা হবে কি না, তা আগামী ১৩ অক্টোবর আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় খলিলুর রহমান নামে এক পথচারীর পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দেন পল্লবী থানার এএসআই মাহবুবুল আলম। এ কাজে তিনি পুলিশের দুই সোর্স মো. রুবেল ও সোহেল রানার সহায়তা নেন। খলিলকে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় মাদকদ্রব্য আইনে মামলা করে পুলিশ। পরবর্তী সময়ে পথচারীর পকেটে মাদক ঢুকিয়ে দেওয়ার ভিডিও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত হয়। এরপর এ মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। একইসঙ্গে এ ঘটনায় পল্লবী থানার এসআই খালিদ হাসান তন্ময় বাদী হয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় এএসআই মাহবুবুল আলমসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। এই তিনজনকে ওইদিনই গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ‘এএসআই মাহবুব অভিযোগকারী এসআই কামরুলকে মিথ্যা তথ্য প্রদান করেন এবং জব্দ তালিকা তৈরির জন্য খলিলের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনাটি তৈরি করেন। ফলে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।’ তদন্তে খলিল রহমানের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আজকালের কন্ঠ /আর

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »