সঞ্জয় দেবনাথ সিনিয়র রিপোর্টার বাউফল : বাউফলের কেশবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। সচিবের অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ঠ হয়ে তার বিচার দাবি করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে গত বুধবার (৩১ আগস্ট) লিখিত অভিযোগ করেছেন একই ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্য।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে দেয়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর ইউনিয়নের সাধারন মানুষের জন্মনিবন্ধন অনলাইন ডাটাবেজ করতে সরকার নির্ধারিত ফি ৫০ টাকার পরিবর্তে ৮-৯ গুণ বেশি টাকা আদায় করছেন ইউপি সচিব যাদব কুমার দত্ত। সাধারন মানুষের থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য কেশবপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারে ৭-৮টি এজেন্ট বসিয়েছেন ওই সচিব। ওই এজেন্টরা সাধারন মানুষের কাছ থেকে জন্মনিবন্ধনের আবেদন সংগ্রহ করে সরকার নির্ধারিত ৫০ টাকার পরিবর্তে প্রতিজনের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। ইউনিয়নের বিভিন্ন সদস্যরা বেশি টাকা আদায়ের প্রতিবাদ করলেও সচিব কোন ভুরুক্ষেপ করছেন না।
অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, সচিব যাদব কুমার দত্ত সপ্তাহে ২-৩ দিন ইউনিয়ন পরিষদে বসেন। বাকি দিনগুলো পটুয়াখালীতে অবস্থান করেন।এরফলে ইউনিয়নের সাধারন মানুষ ইউপি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কোন মানুষের সচিবকে জরুরী প্রয়োজন হলে পটুয়াখালী গিয়ে কাজ করাতে হয়।
ইউএনও কাছে অভিযোগকারী কেশবপুর ইউপি সদস্য মো. আসাদুল হক জুয়েল বলেন, জন্মনিবন্ধন করাতে সরকারি ফি ৫০ টাকা। সচিব আদায় করছেন ১৫০ থেকে ৪০০ টাকা। কোন মানুষ টাকা দিতে না পারলে তার কাজ ফেরে রাখা হয়। এছাড়া নিয়মিত অফিসে না আসায় জনগণ নানা ধরণের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
কেশবপুর ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য মোসা. কাকলী রুমি জানান, ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম নাই বললেই চলে। আমার দু’টি বাচ্চার জন্মনিবন্ধন করতেই সচিবকে ৩০০ টাকা দিতে হয়েছে। এরপরে কম্পিউটার ও অনলাইন খরচ রয়েছে। ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বর সহিদ সিকদার জানান, জন্মনিবন্ধনে সচিব সর্বনিন্ম ১৫০ টাকা নিচ্ছেন এটা সত্য। অভিযোগের সাথে একমত পোষন করে ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বর সাইফুল ইসলাম বলেন, বাউফলের মধ্যে সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন হচ্ছে কেশবপুর। সেখানে সচিব সপ্তাহে মাত্র দুই দিন অফিস করেন। সচিব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতি জন্মনিবন্ধনে ১৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। আমরা প্রতিবাদ করেও সুরাহা পাচ্ছি না। জনৈক মহিলা মেম্বর জানান, এলজিএসপিসহ অন্যান্য বিভিন্ন কাজের বিল থেকেও সচিব টাকা কেটে রাখেন। প্রতিবাদ করলে টাকা আটকে রাখেন। আমরা বড় ঝামেলার মধ্যেই আছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সচিব যাদব কুমার দত্তের মোবাইল নম্বরে বহুবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল-আমিন বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আজকালের কন্ঠ /রাকিব
আপনার মতামত লিখুন :