নিজস্ব প্রতিবেদক : বেকারত্ব দূরীকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ৪৭ তম বছরে এসে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দলীয় কোন্দল, মাদক ব্যবসা ও জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে সংগঠনের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে। সর্বশেষ ক্যাসিনোকাণ্ডে এ সংগঠনটির ভাবমূর্তি এখন সংকটে।
আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা মনে করেন, কয়েকজন নেতার বেপরোয়া জীবনযাপনের কারণে পুরো সংগঠনটিই এখন মুখ থুবড়ে পড়েছে। তবে এ থেকে উত্তরণে নতুন করে পুরো সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে হবে। মূলত এ উদ্দেশ্যেকে সামনে রেখে গৌরবময় ইমেজ পুনরুদ্ধারে আগামী ২৩ নভেম্বর যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে। এর পরপরই ঢাকা মহানগরের দুটি ইউনিটের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছে আওয়ামী লীগের হাই কমান্ড। মূলত ক্যাসিনোকাণ্ডে লণ্ডভণ্ড আওয়ামী লীগের অন্যতম এ সহযোগী সংগঠনটির কেন্দ্রীয় এবং ঢাকা মহানগরের দুটি ইউনিটের নতুন নেতৃত্ব কাদের হাতে যাচ্ছে, সেটিই এখন নেতাকর্মীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
বিশেষ করে জাতীয় সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণের পর থেকেই পদ পাওয়ার প্রতিযোগিতা ও তোড়জোর শুরু হয়ে গেছে। মহানগর দক্ষিণের বেশ কয়েকজন বর্তমান নেতাকর্মী শীর্ষপদের নেতৃত্বে আসতে লবিং-তদবির নিয়ে ইতিমধ্যেই দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। কাঙ্খিত পদ পেতে তারা নানাভাবে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের কাছে ধর্ণাও দিচ্ছেন। বিশেষ করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এ দু’টি শীর্ষ পদে বেশ কয়েকজন করে প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন তারা। এর পাশাপাশি নানা উপায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে আসার চেষ্টা করছেন।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, চলমান শুদ্ধি অভিযানে যুবলীগের ভাবমূর্তি একেবারে ধূলোয় মিশে গেছে। দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় এবং দলটির সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন না হওয়ায় এবং নেতাকর্মীরা দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে যুবলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্ব বাছাইয়ের পাশাপাশি ঢাকা মহানগরীর দুই ইউনিটেও ক্লিন ইমেজের দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ নতুন নেতৃত্ব খোঁজা হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে মাইনুদ্দিন রানা: বর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে যুবলীগ রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় আহমদ উল্লাহ মধু: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশের উন্নয়ণের প্রতীক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রেখে দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করে আসছেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী যুবলীগ দক্ষিণের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে। তার মতো সৎ, নম্র,ভদ্র, বিনয়ী, কর্মীবান্ধব, পরিচ্ছন্ন ও ত্যাগী এই নেতাকে ঢাকা মহানগর আওয়ামী যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি হিসেবে দেখতে চান দলের অধিকাংশ নেতা-কর্মীরা।
জানা যায়,১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে তাঁর পিতা বিজিবি কোয়ার্টার মাষ্টার সানা উল্লাহ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করায় পাক হানাদার বাহিনী ২৫ মার্চ কালো রাতে তাদের গনকটুলীর বাড়ীটি জালিয়ে দেয়।
হাজী আহমদ উল্লাহ মধুর পুরো পরিবার আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। ১৯৮৪-১৯৯০ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদে থেকে ওয়ার্ড ও থানার দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালে স্বৈ’রাচার বি’রোধী গণআন্দোলনে রাজপথে ছিলেন সক্রিয়। ১৯৯১-১৯৯৫ এবং ২০০১-২০০৫ সালে বিএনপি সরকারের আমলে বার বার হা’মলা-মা’মলার শি’কার হন এবং কারাবাস করেন। নাসির উদ্দিন পিন্টুর ট’র্চার সেলে তাঁকে বার বার মধ্যযুগীয় কায়দায় নি’র্যাতন করা হয়।
১/১১ এর সময় তিনি দলের জন্য জোড়ালো ভূমিকা পালন করেন। ২০০৫-২০০৮ সাল পর্যন্ত তথা ফখরুদ্দিন সরকারের আমলে যখন ঢাকা মহানগর আওয়ামী যুবলীগ দক্ষিণের নেতারা পালিয়ে যান তখন তিনি দলকে সুসংগঠিত করে গণতন্ত্রের মানসকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুক্তির জন্য রাজপথে লড়াকু সৈনিকের ভূমিকা পালন করেন। রাজপথের লড়াকু সৈনিক ও ত্যাগী নেতা হাজী আহমদ উল্লাহ মধু।
বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সম্মেলনকে সামনে রেখে সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন মহানগর দক্ষিনের বর্তমান যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক এইচ এম রেজাউল করিম রেজা। তিনি পটুয়াখালী জেলার বাউফল থানার ধুলিয়া ইউনিয়নের চাঁদকাঠি গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম ও আওয়ামী পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন।
রাজনীতি জীবনে তিনি একজন আদর্শ সংগঠক হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত। ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবলীগের দায়িত্ব সততা ও ন্যায় পরায়নতার সাথে পালন করায় তাকে সৎ,সাহসী ও মেধাবী রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সবাই তাকে ভালবাসে। এইচ এম রেজাউল করিম রেজা ঢাকা মহানগর দক্ষিনের যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে কোন অন্যায় ,অবিচার বা কোন ধরনের দুর্নীতি অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিনের যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় নেতা কর্মিদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।
রাজনীতিতে আসা-ঢাকার আরমানি টোলা স্কুলের ১০ম শ্রেনী উঠার পর আওয়ামীলীগের আদর্শবান রাজনৈতিক দল ছাত্রলীগের রাজনীতিতে তিনি যোগদান করেন। এই মেধাবী নেতা লেখাপড়ার পাশাপাশি ছাত্রলীগের রাজনীতির আলোচনায় ও ১৯৮৬ সালে ৫১নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের আহবায়ক নির্বাচিত হন। ১৯৮৭ সালে ঢাকার আরমানি টোলা গভমেন্ট স্কুলের থেকে এস এস সি পাস এবং কবি নজরুল সরকারী কলেজ থেকে ১৯৮৯ সালে এইচ এস সি পাস ও একই কলেজ থেকে ১৯৯২ সালে বি এ পাস করেন। কলেজ জীবনে তিনি ছাত্রলীগের একজন নির্বাচিত সক্রিয় সদস্য ছিলেন।১৯৯৩ সালে তিনি মহানগর ৭৫নং ওয়ার্ড যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন।
১৯৯৪-৯৫ সালে মহানগর ৭৫ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। এই আদর্শবান মেধাবীনেতা ২০০২ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিনের দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব সততার সাথে পালন করেন এবং ২০১২ সালে দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবলীগের ১নং যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক ঘোষনাদেন । তিনি ২০১৪ সালের আক্টোবর থেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সততার সাথে পালন করেছেন।
এইচ এম রেজা ছাত্র জীবন থেকে নিজের দলের জন্য একজন নিবেদিত প্রান । রাজনৈতিক জীবন কোন ভাবে সভা সমাবেশ ফাঁকি দেননি তিনি ,রেজা সব সময় দলের কর্মসূচির ডাকের অপেক্ষায় থাকতেন। আওয়ামীলীগের নেত্রী বর্তমান দলের সভাপতির ডাকে ১৯৮৯ সালে ততকালীন রাষ্ট্র নায়ক হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের সৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময় গ্রেফতার ও নির্যাতনের শিকাড় হন। খালেদা বিরোধী আন্দোলনে করতে গিয়ে ১১টি মামলাসহ ১৯৯৫ সালে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে নির্মমভাবে জেলহাজতে নির্যাতনের শিকাড় হয়েছেন এইনেতা। ২০০১সালে বিএনপির খালেদা জিয়া সরকারের আমলে বাসায় রাত কাটেনি তার ,বিভিন্ন সময় লুকিয়ে থেকে দলের হাইকমান্ডের দায়িত্বশীলদের ডাকে সাড়া দিয়ে দলের কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করেছেন তিনি।
২০০৬সালে ২৮ অক্টোবর পল্টনমোড়ে যুবলীগের সমাবেশে জামায়াত শিবির অতর্কিতভাবে হামলার করে মাইকে ঘোষনা দেয় মরলে শহিদ বাঁচলে গাজী। সেইদিন এই ঢাকা মহানগর দক্ষিনের যুবলীগ দপ্তর সম্পাদক এইচ এম রেজার নেতৃত্বে জামায়াত শিবিরের আন্দোলনকে প্রতিহত করেন তিনি এবং সেই দিন তিনি আহতও হয়ে ছিলেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সমাবেশে ততকালীন বিরোধীদলের নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য চলাকালে গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছিল জঙ্গিরা ,জঙ্গিহামলা দিন তার নিজের গায়ে স্পীপ্লিন্ডার লেগেছিল তাঁর ঠোঁটে ও হাতে যার ক্ষত তিনি এখনো বহন করছেন।
সেই দিন তিনি নিজের ব্যাথা ভুলে গিয়ে এই সাহসী নেতা নিজের সহযোগিতায় রোগিদের হাসপাতালে ভর্তি করে ছিলেন। ২০০৭সালে ১৬জুলাই তত্ত¡াবদায়ক সরকারের আমলে ততকালীন বিরোধীদলের নেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে বিশেষ আদালতে নিয়ে যাবার সময় ঢাকা মহানগর দক্ষিনযুবলীগ দপ্তর সম্পাদক রেজার নেতৃত্বে রায়সাহেব বাজার মোড়ে শেখ হাসিনার মুক্তির চাই বিশাল মিছিল নিয়ে শেখ হাসিনাকে বহন করা গাড়িটি আটকিয়ে দিলে সেই দিন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পুলিশের হাতে বেদম নির্যাতনের স্বীকার ও গ্রেফতার হন এইচ এম রেজাউল করিম রেজা।
প্রশ্ন করা হয় যুবলীগ মহানগর দক্ষিন সভাপতি প্রার্থীর গুঞ্জন শুনি আপনি কি ভাবে মুল্যয়ন করেন?
এইচ এম রেজাউল করিম রেজা আজকালের কন্ঠ কে বলেন, এ বিষয় আমি আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে দায়িত্ব দিবেন,তিনি আমাকে দায়িত্ব দিলে সে দায়িত্ব সততার সাথে পালন করবো। ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবলীগকে শেখ ফজলুল হক মনির যুবলীগে পরিণত করবো । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রীর শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে যাবো এবং সকল আন্দোলন সংগ্রামে পাশে থাকবো। তিনি আরো বলেন,আমি দীর্ঘদিন যাবৎ দলের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছি। দল যদি মনে করেন আমাকে এমহান দায়িত্ব অর্পন করবেন,আমি অর্পিত দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করবো এবং মহানগর দক্ষিন যুবলীগকে আমার মেধাদ্বারা তৃনমুল নেতাকর্মীদের নিয়ে শক্তিশালী সংগঠনে পরিনত করবো।
এবার সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রেক্ষাপট অন্যান্য বারের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ায় বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি মোরসালিন আহমেদ শীর্ষ পদের নেতৃত্বের দৌড়ে অন্য সবার চেয়ে তুলনামূলক এগিয়ে রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতা বলেন, বয়স, যোগ্যতা এবং ইমেজকে মাপকাঠি ধরা হলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হওয়ার দৌঁড়ে মোরসালিন বেশ সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন। একাধারে তিনি যেমন একজন রাজনীতিক এবং সমাজসেবক তেমনি শিক্ষানুরাগী হিসেবেও সুনাম কুড়িয়েছেন যথেষ্ট। এর পাশাপাশি নীরবে, নিভৃতে অসহায় ও গরীব মানুষের পাশে সাহায্যের হাত নিয়ে দাঁড়ানোর জন্যও তিনি অনন্য। এছাড়াও স্বৈর সরকারের পতনের আন্দোলন এবং বিএনপি জামায়াতের দুঃশাসনের প্রতিবাদে রেকর্ড ১৩ বার বার কারাবরণের শিকার হয়েছেন মোরসালিন। শিকার হতে হয়েছিলো তাকে সেনা শাসনের নির্মম নির্যাতনের।
দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে মোরসালিন আহমেদ শুরু থেকেই অপ্রতিদ্বন্দ্বী। প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা ও পটুয়াখালী-৪ আসনের সাবেক সাংসদ আনোয়ারুল ইসলামের মাধ্যমে তার রাজনীতিতে হতে খড়ি। ১৯৯০ সালে বাবুল-মাহাবুব নেতৃত্বাধীন কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগ কমিটির সদস্য হিসেবে তার রাজনৈতিক জীবনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলেও তিনি প্রথম আলোচনায় আসেন বাবুল-কবির নেতৃত্বাধীন কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে। ২০০১ এর বিতর্কিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তিনি ঢাকা এসে মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। আন্দোলন সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ২০১২ সালে যুবলীগের ষষ্ঠ কংগ্রেসে তাকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে মূল্যায়িত করা হয়। তিনি তৃণমূলেও তুমুল জনপ্রিয়। হেফাজত ইসলামের আওয়ামী লীগ পার্টি অফিস হামলা প্রতিরোধসহ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জামায়াতের আন্দোলন প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের মাঝে আলোচনায় আসেন মোরসালিন। এছাড়া সংগঠনের ভেতরে আলোচনা রয়েছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুব লীগের শীর্ষ নেতাদের মাঝে হাতে গোনা যে কয়জন নেতাকে দুর্নীতি ও অপকর্ম স্পর্শ করতে পারেনি তাদের একজন মোরসালিন। যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি হিসেবে তিনি সফলভাবেই তার দায়িত্ব পালন করেছেন বলে মন্তব্য করছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
একাধিক নেতাকর্মী এ প্রসঙ্গে জানান, মোরসালিন আহমেদকে সভাপতি করা হলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগকে নিয়ে দল এবং জনসাধারণের মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে তা সহজেই দূরীভূত হবে। এখানে নেতাকর্মীদের মাঝে তাকে নিয়ে এক ধরণের নীরব সমর্থনও কাজ করছে।
মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান মাকসুদ একসময় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক ছিলেন। তিনিও মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর ছবি কৃত্রিমভাবে নিজের পোস্টারে ‘সুপার ইম্পোজের’ মাধ্যমে যুক্ত করে প্রচারণা চালানোর দায়ে শাস্তিস্বরূপ সংগঠন থেকে বরখাস্ত হয়েছিলেন একবার।
এছাড়াও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক খন্দকার আরিফুজ্জামান আলোচনায় রয়েছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
আজকালের কন্ঠ /মিজান
আপনার মতামত লিখুন :