
পটুয়াখালীর দুমকীতে শিক্ষা উন্নয়ন সংঘ, আঙ্গারিয়া বন্দরের উদ্যোগে ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী ৭০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় দুমকী উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উৎসবমুখর পরিবেশে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শিক্ষার্থীদের মেধা ও কৃতিত্বের স্বীকৃতি প্রদান এবং উচ্চশিক্ষায় অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক, সনদপত্র ও শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়।
শিক্ষা উন্নয়ন সংঘের সভাপতি ও দুমকী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. সাফায়েত হোসেন সাগরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. আতিকুর রহমান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টমেড লিমিটেডের চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক রোটারিয়ান প্রকৌশলী এম. এ. হক।
বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, দুমকী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন, প্রেসক্লাব দুমকির সভাপতি জসিম উদ্দিন সুমনসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উন্নয়ন সংঘের উপদেষ্টা গাজী বাইজিদ মাহমুদ, নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম শাওন, মো. ফিরোজ মাহমুদ নাসির, ওবায়দুল ইসলাম রাকিব, গাজী আতিকুর রহমান শাওন ও মনোয়ার ইসলাম মুন্না। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আঙ্গারিয়া শিক্ষা উন্নয়ন সংঘের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আসিকুর রহমানসহ কমিটির সকল সদস্য। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আসিকুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. আতিকুর রহমান শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ব্যবহার সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন, বর্তমানে শিক্ষার্থীদের অন্যতম বড় সমস্যা মোবাইল আসক্তি। ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় অজান্তেই মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যা তাদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ গঠনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ সময় তিনি মোবাইলের অপব্যবহারকে ‘দাজ্জালের ফিতনা’র সঙ্গে তুলনা করে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রিত ও ইতিবাচক ব্যবহারের আহ্বান জানান।
শিক্ষা উন্নয়ন সংঘের কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, সংগঠনটির শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
সভাপতির বক্তব্যে মো. সাফায়েত হোসেন সাগর কৃতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জনই জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য নয়, বরং এটি সাফল্যের পথে প্রথম ধাপ। তোমাদের লক্ষ্য যদি হয় ৪০০ মিটার উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছানো, তাহলে আজকের অর্জন মাত্র ১০০ মিটার পথ অতিক্রম করার সমান। তাই আত্মতুষ্টিতে না ভুগে অধ্যবসায় ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, আঙ্গারিয়া শিক্ষা উন্নয়ন সংঘের মতো একটি শিক্ষাবান্ধব সংগঠনের নেতৃত্বে থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মানিত করতে পারা অত্যন্ত গর্বের ও আনন্দের।
সংগঠনের সাবেক সভাপতি ও ব্যাংক কর্মকর্তা গাজী আতিকুর রহমান শাওন বলেন, ‘১৯৯৯ সালের ১ মার্চ শিক্ষা উন্নয়ন সংঘের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নিজেদের অর্থায়নে আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করে আসছি। ভবিষ্যতে দুমকী উপজেলার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রত্যাশা রয়েছে।’
সংবর্ধনাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন কৃতি শিক্ষার্থী রুমানা জুই। তিনি বলেন, ‘জিপিএ-৫ অর্জন আমাদের শিক্ষাজীবনের শেষ সাফল্য নয়, বরং নতুন পথচলার সূচনা। সামনে আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে হবে। তাই এখন থেকেই পড়াশোনায় আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে।’
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের নৈতিক মূল্যবোধ, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শুধু ভালো ফলাফল নয়, অর্জিত জ্ঞানকে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর মানসিকতাও তৈরি করতে হবে।
আলোচনা শেষে অতিথিরা ৭০ জন কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা স্মারক, সনদপত্র ও বৃত্তি তুলে দেন। এ সময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।
আয়োজকরা জানান, মেধাবী শিক্ষার্থীদের যথাযথ মূল্যায়ন, শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়নে উৎসাহ জোগানোই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও শিক্ষার প্রসার ও মেধা বিকাশে সংগঠনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :