
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার ৬ নম্বর চরগাজী ইউনিয়নের জোড়পুকুর-বয়ারচর এলাকায় বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) কর্তৃক কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ২০২১ সালে নির্মাণের পর কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও কেন্দ্রটিতে কাঙ্ক্ষিতভাবে মাছের বেচাকেনা শুরু হয়নি। ফলে জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারি অর্থে নির্মিত এ স্থাপনার মূল উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় জেলে ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, মেঘনা নদী ও উপকূলীয় এলাকার জেলেদের জন্য আধুনিক ও সুশৃঙ্খল বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে জেলেরা এখানে মাছ নিয়ে আসছেন না এবং পাইকারদেরও তেমন উপস্থিতি নেই। এতে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামোটি অনেকটাই ব্যবহারহীন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু মাছ ব্যবসায়ী নিজেদের স্বার্থে কেন্দ্রের বাইরে বিভিন্ন ঘাট ও বাজারে ছোট ছোট আড়ত পরিচালনা করছেন। ফলে সরকারি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মাছের বেচাকেনা জমে উঠছে না। এ কারণে কেন্দ্রটি নির্মাণের যে উদ্দেশ্য ছিল, তা অনেকটাই ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল পরিসরের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটির প্রাঙ্গণে নেই জেলে, পাইকার কিংবা ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্বাভাবিক আনাগোনা। পুরো এলাকা অনেকটাই নীরব ও জনমানবহীন। নিয়মিত কার্যক্রম না থাকায় সরকারি অর্থে নির্মিত স্থাপনাটি অযত্নে পড়ে থাকার চিত্রও দেখা গেছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সরকারি স্থাপনা যদি নিয়মিত কাজে না লাগে, তাহলে এর সুফল পাচ্ছেন কারা? দীর্ঘদিন ব্যবহারহীন থাকলে ভবন ও অন্যান্য অবকাঠামো নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সরকারি বিনিয়োগেরও অপচয় হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
জেলেদের দাবি, মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে হবে। এজন্য নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি ও তদারকি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জেলে ও পাইকারদের সরকারি কেন্দ্রে মাছ বেচাকেনায় উৎসাহিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
একই সঙ্গে কেন্দ্রের বাইরে মাছের বেচাকেনা এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কথিত নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে বিষয়টি তদন্ত করে কেন্দ্রটি কেন কার্যকরভাবে চালু হচ্ছে না, এর পেছনে ব্যবস্থাপনাগত কোনো সমস্যা বা ব্যবসায়ীদের কোনো ধরনের প্রভাব রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :